
বিশেষ প্রতিনিধি : রোকেয়া দিবস উপলক্ষে জয়িতা সম্মাননা পেলেন কবি ও সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না। ৯ ডিসেম্বর ২০২০ বুধবার পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত উপজেলার অডিটোরিয়ামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এতে জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না ছাড়াও আরও ৫ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারী নারীদের জয়িতা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ৬ জন নারী হলেন- সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় সম্মাননা প্রদান করা হয় কবিও সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্নাকে, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারীতে খালেদা আক্তার, স্বপ্নজয়ী মা হিসাবে আসমা আক্তার খাতুন, উপজেলা শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী শারমিন সুলতানা শাপলা ও সফল জননী নারী হিসাবে আল্পনা বেগম এবং নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী নিলুফা আক্তার।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম লুৎফর রহমান আজাদ। উম্মে হাবিবা অমির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাকুন্দিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা থেকে পুরুষদের বেরিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষদের ভূমিকা সব থেকে বেশি। আমরা (পুরুষরা) পারিবারিকভাবেও নারীদের সহায়তা করতে পারি। এক্ষেত্রে আমাদের মানসিক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি ৬জন জয়িতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের জয়িতারা সমাজের দৃষ্টান্তস্বরূপ। আমি আশা করবো- তারা সমাজ উন্নয়নে আরও বেশি গঠনমূলক ভূমিকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এ সময় জয়িতারা তাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কবি ও সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না তাঁর জীবনের সফলতার পেছনে তাঁর পরিবারের অবাধ স্বাধীনতাকেই গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে পরিবারের প্রধান পুরুষ বাবাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বাবার হাত ধরেই তাঁর ঘর থেকে বের হওয়া। তাঁর বাবা মোঃ কেরামত আলী সব সময় চাইতেন তাঁর সন্তান উচ্চ শিক্ষা লাভ করে সমাজের মানুষের সেবা করবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। একজন মেয়ে সন্তান নিয়ে তিনি সব সময় গর্বিত হতেন। ছেলে আর মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করতেন না।
জান্নাতুল ফেরদৌস পান্নার খুব ছোট বেলা থেকেই সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি মারাত্মক টান অনুভব করেন। সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজের নানা জটিলতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। সমাজের সব ধরনের মানুষের সেবায় সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। বাল্য বিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকেন।
সম্প্রতি করোনা মহামারীর সময়েও নিজ এলাকায় ত্রাণ কমিটির সদস্য হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। করোনা মহামারীকে উপেক্ষা করে তৃণমূল মানুষের পাশে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। এক অপার ভালোবাসার বন্ধনে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন আজকের জয়িতা জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না।
জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের (জেরিন ফেরদৌস পঙক্তি) জননী। তিনি ১৯৯৯ সালে এসএসসি, ২০০২ সালে এইচএসসি, ২০০২-২০০৩ ব্যাচে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স, ২০০৬-২০০৭ ব্যাচে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি ২০১৮ সালে রূপনগর ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস পান্নার প্রকাশিত গ্রন্থ ৭টি। ২০১৭ সালে কিশোরগঞ্জ ছড়া উৎসব পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক কাব্যসাহিত্যে সুকুমার রায় সাহিত্য পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে একাধিক বার সাহিত্য সম্মাননা লাভ করেন। গত ৬ নভেম্বর ২০২০ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লিখা “চেতনার ঈশ্বর বঙ্গবন্ধু ” শিরোনামে একটি প্রবন্ধের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।
রাজনৈতিকভাবেও তাঁর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে কিশোরগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের হয়ে তিনি কাজ করেছেন। কাজ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কর্মী হিসাবে। বর্তমানে তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। পেশায় তিনি একজন সাংবাদিক। দীর্ঘ দুই দশক ধরে জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না বেশ কয়েকটি স্ব-নাম ধন্য পত্রিকায় অত্যান্ত যোগ্যতার সাথে কাজ করেছেন। তিনি দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক মানবকণ্ঠ, দৈনিক আমাদের অর্থনীতিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন।
পেশাগত কাজের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০১৮ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী সদস্য। সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টারদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য।
এছাড়াও সাংবাদিকতা পেশায় তিনি দুই বার ফেলোশিপ অর্জন করেন।
শীর্ষবাণী/এনএ















