
আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন: চরফ্যাশন পৌরসভায় হঠাৎ করে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। এতে অতিষ্ঠ পথচারী, স্কুল- কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। এমনকি এসব কুকুরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গবাদিপশু। হাসপাতালেও বাড়ছে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু।
পৌর শহর ঘুরে দেখা যায়, ফ্যাশন স্কয়ার, হরিবাড়ি মোড়, জনতা রোড পূর্ব মাথা লঞ্চঘাট, কুতুবগঞ্জ, কাইমদ্দিন মোড়, নতুন বাস স্টান্ড, জালু মুন্সির চৌমুহনী, বিআরডিবি এলাকায় কুকুরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে রাতের বেলায় সদর রোড, কলেজ রোড ও ফ্যাশন স্কয়ারে দল বেঁধে ১৫-২০টি কুকুর ঘোরাঘুরি করছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, সন্ধ্যা নামলেই কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যায়৷
চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মাহমুদ জানান, চরফ্যাশন পৌর শহরে বিশেষ করে চরফ্যাশন বাজারে অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ পথচারীগণ৷ কর্তৃপক্ষ এখনই ব্যবস্থা না নিলে শহরের সুস্থ পরিবেশ ভেঙে পড়বে৷
এদিকে, ২০১৯ সালে করা প্রাণী কল্যাণ আইন বলছে, মালিকানাবিহীন কোনো প্রাণি নিধন বা স্থানান্তর দণ্ডণীয় অপরাধ। এছাড়া ২০১৪ সালে একটি প্রাণিপ্রেমী সংগঠনের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। কিন্তু এবার চরফ্যাশন পৌরবাসী জোর দাবি করেছে, অবাধে বিচরণকারী বেওয়ারিশ কুকুর থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে।
চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মনির আহমেদ শুভ্র বলেন, মালিকানাবিহীন যে সমস্ত বেওয়ারিশ কুকুর পৌর এলাকায় মানুষের নিরাপদ বসবাসে বাধা বা আতঙ্ক তৈরি করে, সেসকল কুকুর আইন অনুযায়ী নিধনে বাধা থাকলে স্থানান্তর করে বা কুকুরের বন্ধ্যাত্মকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পৌরবাসীকে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি৷
এ বিষয়ে চরফ্যাশন পৌর মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, হাইকোর্টের রায় আছে কুকুর নিধন বন্ধ ও প্রাণী দিয়ে নিষ্ঠুর খেলা প্রদর্শন না করতে। এর বিকল্প হিসেবে পৌরবাসীকে কুকুরের অত্যাচার থেকে নিরাপদে রাখতে, আমরা জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে টিকা দেওয়া ও বন্ধ্যাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শীর্ষবাণী/এনএ















