
আমিনুল ইসলাম: তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তানজিলা (১৩)৷ বাবা-মা ও নিজের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে সমাজের জন্য কাজ করবে৷ কিন্তু মাদকাসক্ত বখাটে রাকিব তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দিলো না৷ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই মেধাবী ছাত্রী৷ তানজিলা মাদ্রাজ ইউনিয়নের চর আফজাল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে৷
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, গত ১১ জুলাই চর আফজাল নিজ বাড়ি থেকে বিকাল ৩টায় মোল্লাবাড়ি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বখাটে রাকিব দলবল নিয়ে তানজিলাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত গতিতে স্থান ত্যাগ করে৷
চলন্ত মোটরসাইকেলে ঝাঁপটা ঝাপটির এক পর্যায়ে চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডের জহির কমিশনারের বাড়ির সামনে হুন্ডা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তানজিলা৷ আহত তানজিলাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারী মাদকাসক্ত রাকিব৷ স্থানীয় লোকজন দেখে প্রথমে চরফ্যাশন থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেয়ার পথে সন্ধ্যা ৭টায় পৃথিবীর মায়া ছেড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ১৩ বছরের নিষ্পাপ মেধাবী ছাত্রী তানজিলা৷
লাশ চর আফজাল নিজ বাড়িতে আনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা৷ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া৷ শেষবারের জন্য এক নজর দেখতে ছুটে আসেন আত্মীয়, সহপাঠীসহ এলাকার হাজারো মানুষ৷ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হন তানজিলাকে৷
তানজিলার বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক ভদ্র, নম্র, মেধাবী মেয়ে ছিল আমার৷ এ বয়সে এত নির্মমভাবে মেয়েকে হারাতে হবে ভাবি নি কখনো৷ স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই রাকিব উত্যক্ত করত মেয়েটাকে৷ আমি জানার পর রাকিবের বাবা মৎস্য ব্যবসায়ী আঃ কুদ্দুসকে বিষয়টি জানালে কোন ব্যবস্থা নেয়নি৷ তিন মাস পূর্বে লোক মারফত বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন রাকিব৷ আমি তাতে রাজি হইনি৷ পড়ালেখা বিহীন, বখাটে রাকিব এমন কিছু করবে আমি কল্পনাও করিনি৷
এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ আমি আসামিদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি৷
এদিকে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, ১৩ জুলাই ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে৷ মামলার তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই৷ আসামিদের আটক করতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি৷ ইনশাআল্লাহ সফল হব৷















