
বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে গত এপ্রিলে পরিবর্তন আনে সরকার। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি অফিস ১ ঘণ্টা কম সময় পরিচালিত হচ্ছে।
তবে বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতা কমে এলেও এখনো আগের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এতে প্রতি কর্মদিবসেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ ঘণ্টা করে কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে গতকাল ঘুরে দেখা গেছে, বিকাল ৪টার আগে অধিকাংশ দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস শেষে কর্মস্থল ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৪টার দিকে বিভিন্ন গেট দিয়ে সচিবালয়ে কর্মরতরা বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের এক অতিরিক্ত সচিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতা কমে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি না হওয়ায় ১ ঘণ্টা কম অফিস চলছে। তবে এখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত ২ এপ্রিল সরকারি-বেসরকারি অফিসের নিয়মিত সময়সূচিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেদিন রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়। রাত প্রায় পৌনে ১২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ধরে এ বৈঠক হয়। পরে সেখানে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত করা হয়। এর আগে সকাল ৯টা-৫টা পর্যন্ত অফিস চলত। আর ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক বন্ধ শুরু হয় বিকাল ৪টার মধ্যে। এছাড়া দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
পূর্বের অফিস সময়ে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বণিক বার্তাকে বলেন, এখনো এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ ধরণের সিদ্ধান্ত হয় মূলত কেবিনেটে। আলোচনা হলে জানানো হবে।















