নাম টিউলিপ দেখে কম্পিউটার চুক্তি বাতিল করেছিলেন খালেদা জিয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৯৬ সালে ক্ষমতা এসে নেদারল্যান্ডের সঙ্গে ১০ হাজার কম্পিউটারের জন্য একটি চুক্তি করেছিলাম। তারা অর্ধেক দামে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর খালেদা জিয়া ক্ষমতা এসেই প্রথমে সেই চুক্তিটি বাতিল করেন।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ উদ্বোধনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি’ -প্রতিপাদ্য নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এই দেশটা চেয়েছিলেন উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। ৭৫ -এর আগষ্ট আমি ও আমার ছোট বোন দেশে ছিলাম না। আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। সেই বাঁচাটা আনন্দের বিষয় ছিল না। কারণ, আমার মা-বাবাকে হারিয়ে ছিলাম। বাংলাদেশে মানুষ একটা স্বপ্ন দেখেছিল। জাতির পিতার হত্যার মধ্যদিয়ে সেই স্বপ্নটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

সরকারপ্রধান বলেন, ৯২ সালে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছিলাম সাবমেরিন ক্যাবল বিনা পয়সায় সংযুক্ত হবে। তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায়, তখন সে বলেছিল না, এটা সংযুক্ত হবে না। তাহলে নাকি বাংলাদেশের সব তথ্য বাইরে চলে যাবে। এটা করা যাবে না। আমরা সেই সুযোগটা হারালাম। আমরা ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবার উদ্যোগ ছিল নতুন করে সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া, সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাটাও আমরা নিলাম।

সেখানেও একটি দুঃখের কাহিনী আছে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি চেষ্টা করলাম কম্পিউটার সংগ্রহ করতে। তখন আমাদের রিজার্ভ মাত্র ২.৫ মিলিয়ন ডলার বিএনপির সরকার রেখে গিয়েছিল। কাজে এতো বেশি টাকা খরচ করাও সম্ভব ছিল না। তারপরও আমার উদ্যোগে নেদারল্যান্ডের সঙ্গে একটা চুক্তি হলো- ১০ হাজার কম্পিউটার তারা দেবে অর্ধেক দামে। অর্ধেক আমরা অনুদান হিসেবে পাবো। আর অর্ধেক দাম আমাদের দিতে হবে। ১০ হাজার স্কুল নির্দিষ্ট করলাম, চুক্তি করলাম। সেই কম্পিউটার আসার কথা। ইতোমধ্যে আমাদের পাঁচ বছর নির্দিষ্ট সময় শান্তিপূর্ণভাবে ২০০১ ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি। বিএনপি ক্ষমতায় এলো। এসেই সেটা (কম্পিউটার চুক্তি) বন্ধ করে দিল। কেন? যে কোম্পানির কাছ থেকে আমরা কম্পিউটার কিনছিলাম, আপনারা জানেন নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুলের নাম টিউলিপ। ওই কোম্পানির নাম ছিল টিউলিপ। রেহানা আমার ছোট, তার মেয়ের নাম টিউলিপ, সে এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি। যেহেতু তার নামে নাম, খালেদা জিয়াকে কেউ বুঝালো, দেখেনে না টিউলিপ কোম্পানি, এটা রেহানার মেয়ের নামে শেখ রেহানার কোম্পানি। সেজন্যে সেটা বাতিল করল।

তিনি বলেন, সেই কোম্পানি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করলো। আর সেই মামলায় বাংলাদেশের জেতার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। ৬২ কোটি টাকা খরচ করতে হলো এবং আমাদের ডেমারেজ দিতে হলো। আমি যখন ক্ষমতা আসলাম তখনও চলছিল। অনেক দেন দরবার করে ৩২ কোটি টাকায় নামাতে পেরেছিলাম। ১০ হাজার কম্পিউটার গেল, সঙ্গে আমাদের সম্ভাবনা গেল।

কম্পিউটার বিষয়ে যতটুকু জ্ঞান সজিব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে আমরা লক্ষ্য স্থির করে ছিলাম, আমরা সেটা করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ করব। যদিও করোনাভাইরাসের সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, আমেরিকা প্রদত্ত স্যাংশন, ইউরোপের স্যাংশন এবং কাউন্টার স্যাংশান, যার ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। গ্রেট ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশও নিজেদের অর্থনৈতিক মন্দা দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। আল্লাহর রহমতে এখনও আমরা আমাদের অথনৈতিক চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, এই শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, শীতের দেশ, যেখানে হিটার না জ্বালিয়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারে না। আজকে তারা বিদ্যুৎ পায় না। এমনও অবস্থা আছে ইউরোপ, ইংল্যান্ড, আমেরিকার এমনও জায়গা আছে গোটা পরিবার একটা রুমে হিটার জ্বালিয়ে এক সঙ্গে থাকে, কারণ সেখানে বিদ্যুতের অভাব। কিছুদিন আমাদের অসুবিধা হয়েছে, তারপর আমরা দিয়ে যাচ্ছি। একেবারে বঞ্চিত কাউকে করিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে আগামী ৪১ সালের উন্নক দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। সেই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা চলে যাব। স্মার্ট বাংলাদেশ করার জন্য চারটি ভিত্তি ঠিক করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যকটা সিটিজেন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে, স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি অর্থাৎ ইকোনমির সমস্ত কার্যক্রম আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে করব। স্মার্ট গর্ভমেন্ট, ইতোমধ্যে আমরা অনেকটাই করে ফেলেছি এবং আমাদের সমস্ত সমাজটাই হবে স্মার্ট সোসাইটি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একেএম রহমত উল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম।