
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তার (খালেদা জিয়া) অন্যায় এত গভীর যে, এতিমের টাকা মেরে দিছেন এজন্য বিচারিক আদালত পাঁচ বছরের জায়গায় ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন। উনি এবং উনার ছেলেরা দুস্থদের টাকা মেরে দিয়েছে সেখানেও বিচারিক আদালত তাকে সাত বছরের সাজা দিয়েছেন। এতো কিছুর পরও মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। উনি চিকিৎসা করাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দাঁড়াইতে দিলে বসতে চায়, বসতে দিলে শুইতে চায় আর শুইতে দিলে ঘুমাইতে চায়। তাদের অবস্থা এখন এই রকম।
শুক্রবার সকালে আখাউড়ায় সড়কবাজার মুক্তমঞ্চে পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইন, আইনের গতিতে চলবে, জিয়াউর রহমানের গতিতে আইন চলবে না। আইন, আইনের বইয়ে যেভাবে চলে সেভাবেই চলবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বাঙালির রীতিনীতি অনুযায়ী শত্রুর বাড়িতেও যদি কেউ মারা যায় তাকে সমবেদনা জানায়। খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গেল, স্বাভাবিকভাবেই মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মাকে (খালেদা জিয়া) সমবেদনা জানানোর জন্য তার বাসায় গেলেন। তখন মুখের ওপর গেট বন্ধ করে দেন, তার বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এটা শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অপমান করা হয়নি, সারা দেশের মানুষকে অপমান করা হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, তারা বলতেছে বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার পরিবার যেহেতু একটি দরখাস্ত দিয়েছে, তুমি আইনের মারফতে ছেড়ে দাও।
‘তখন খালেদা জিয়াকে দুটি শর্তে আমরা ছেড়ে দিলাম। তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না, আরেকটি হলো তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আক্তার, পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউসার ভূঁইয়া জীবন, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বাক জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম আহবায়ক সেলিম ভূঁইয়া, মনির হোসেন বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতি ট্রেন যোগে আখাউড়ায় আসেন। পরে তিনি সড়ক পথে নিজ উপজেলা কসবায় যান।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নিজস্ব অর্থায়নে ছয় শতাধিক অসহায়, গরিব, দুস্থ ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।















