৭ ই মার্চ: পয়েট অব পলিটিক্স

মোঃ রুমী কিসলু: স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বজ্র কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন –

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার সর্বস্তরের নিরস্ত্র জনগণ ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ১৮ মিনিটের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু মুক্তিকামী বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজউইক বঙ্গবন্ধুকে প্রথম “রাজনীতির কবি বা পয়েট অব পলিটিক্স” উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল এই নিউজউইক ম্যাগাজিনটির প্রচ্ছদ জুড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে লিড নিউজে তাকে অভিহিত করে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ বা ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি এখন পর্যন্ত মোট ১২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। ১৮৬৩ সালের ১৬ ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন পেনসেলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের গেটিসবার্গ নামক স্থানে গৃহযুদ্ধে নিহত সেনাসদস্যদের সমাধিক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে “গেটিসবার্গ এড্রেস” নামে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন এবং ১৯৬৩ সালের ২৮ শে আগস্ট মার্টিন লুথার কিং “আমার একটা স্বপ্ন আছে” যে ভাষণ দিয়েছেন তাঁদের ভাষণ দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্ধুদ্ধ করেনি। কিন্তু রাজনীতির কবির অমর কবিতা, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক বক্তৃতার মাধ্যমে একটি নিরস্র জাতিকে সশস্র জাতিতে পরিণত করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক সেই জ্বালাময়ী ভাষণ কোনো সাধারণ ভাষণ ছিলনা। ৭ ই মার্চের বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি জাতি নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, একটি মানচিত্র, লাল সবুজের পতাকা।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ- স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো নামক কবিতায় লিখেছেন-

একটি কবিতা পড়া হবে,তার জন্য কী ব্যাকুল

প্রতীক্ষা মানুষের : “কখন আসবে কবি?” “কখন আসবে কবি?”

শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,

রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে

অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।

তখন পলকে দারুন ঝলকে তরীতে উঠিল জল,

হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার

সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?

গণসুর্য্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি :

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো এই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে “ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ৭ই মার্চ কে জাতীয় দিবসের মর্যাদা দিয়েছে। আমারা গোটা বাঙালি জাতি এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করব। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাঙালির অটুট বন্ধন চিরন্তন হোক।
জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক:
মোঃ রুমী কিসলু
সেকশন অফিসার
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

উপ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক
বঙ্গবন্ধু পরিষদ
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা।