আ’লীগ নেতা হারুন চেয়ারম্যান আর নেই

ঢাকা অফিস : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ (হারু চেয়ারম্যান) আজ শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন)।

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) এর সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এর সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু আজ তার ফেসবুক পোস্টে এতথ্য জানিয়েছেন। মরহুম হারুন অর রশিদ সম্পর্কে তার মামা হন।

তিনি জানান, আজীবন সংগ্রামী, পশ্চিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম নেতা হারুন অর রশিদ আমৃত্যু আওয়ামী লীগার ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য, জেলা কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

তিনি আরও জানান, হারুন অর রশিদ আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অত্যন্ত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি আজীবন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মানুষের সুখে দুঃখে তিনি একনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন। ন্যায় নিষ্ঠা, সততা, পরোপকারের জন্য নিবেদিত হারুন চেয়ারম্যান সকলের নিকট অত্যন্ত গ্রহণযেগ্য এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ অনুসারী, আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটি দলের জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। বিনিময়ে কোনদিন দলের কাছে কোন প্রতিদান চাননি। আওয়ামী লীগ করার কারণে তিনি অনেকবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কিন্তু কোনদিন কোন অন্যায়ের কাছে আপোষ করেননি। নীতির প্রশ্নে তিনি সবসময় অবিচল ছিলেন।

হারুন অর রশিদ ছিলেন আদর্শ রাজনৈতিকের প্রতিকৃত। আজকের ভোগবাদী রাজনীতির যুগে তাঁর মত নিবেদিত আদর্শ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পাওয়া খুবই দুষ্কর।

ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের অভ্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্হান আশুগঞ্জ আজকের এই অবস্থানে আনার পেছনে হারুন চেয়ারম্যানের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও পচাত্তর পরবর্তী চরম দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান কোনদিন ভুলার নয়।

অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, হারুন চেয়ারম্যান আমার রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রেরণা যুগিয়েছেন, রাজনীতিতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন। আশুগঞ্জ বরাবরই অর্থনৈতিকভাবে অনেক সমৃদ্ধশালী হলেও রাজনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে জেলা রাজনীতিতে আশুগঞ্জ অনেক পিছিয়ে ছিল। হারুন চেয়ারম্যান সবসময় আশুগঞ্জকে মর্যাদাশীল অবস্থানে পৌঁছাতে ভূমিকা রেখে গেছেন। আশুগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসনে কেউ কোনদিন এমপি হতে পারেনি এটা তাঁর কষ্টের কারণ ছিল। আশুগঞ্জে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি মনোনয়নের দাবিতে আমি যখন জনমত তৈরি করতে করতে ব্যাপক প্রোগ্রাম নিয়ে মাঠে নামি তখন হারুন চেয়ারম্যান সর্বাগ্রে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন প্রধান উৎসাহ দাতা। এই দাবিতে ২০০৫ সালে আশুগঞ্জ আমি ৩০/৪০ হাজার মানুষের যে শো’ডাউনটি করেছিলাম তার প্রেরণা ও সহায়তাকারি ছিলেন হারুন চেয়ারম্যান।

আজ শনিবার বাদ আছর যাত্রাপুর ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু।
শীর্ষবাণী/এনএ