‘এক বাবাকে হারিয়ে আরেক বাবাকে পেয়েছি’

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিক্ষকের মেয়ের হাতে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা তুলে দেওয়ার সময় ওই শিক্ষকের মেয়ের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এর সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু। যা শীর্ষবাণী ডটকম এর পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিন সুখ দুঃখের কত ঘটনাইনা প্রত্যক্ষ করতে হয়। আজ বুধবার কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যালয়ে শেরপুরের নকলা উপজেলার একটি হাইস্কুলের প্রয়াত শিক্ষকের কন্যা তার বাবার কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য একটি আবেদন নিয়ে আসে। তাঁর বাবা ক্যান্সারে আক্তান্ত হয়ে মারা গেছেন। ক্যান্সারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণগ্রস্থ হয় পরিবারটি। এমতাবস্থায় কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য আমার দারস্থ হয় মৃত এই শিক্ষকের মেয়ে ফারজানা রায়হান। আমি তাদের সমস্যা শুনে তাঁর বাবার কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার ব্যবস্থা করে দেই। মেয়েটি ভাবতে পারেনি এত সহজেই টাকা পেয়ে যাবে। সে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকাতে থাকে। আমি লক্ষ্য করলাম তাঁর দু’চোখ ছল ছল করছে চোখের কোনে পানি।

মেয়েটির এ অবস্থা দেখে আমার খুব মায়া লাগছিল। তাকে কেন যেন আমার অনেক আপন মনে হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়েটি আমাকে বলল স্যার আমি আপনার পা ছুয়ে সালাম করতে চাই। আমাকে একটি সুযোগ দিন বলতে বলতে মেয়েটি আমার পা ছুঁয়ে সালাম করতে থাকে। আমার অফিসে তখন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এঘটনায় সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আমি নিজেও কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।

আমি ফারজানাকে এবার বই মেলায় প্রকাশিত আমার লেখা বিশ্ববিজয়ী শেখ হাসিনা” বইটি উপহার দেই এবং তার মাকে নামাজ পড়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করতে বলি। সে যাবার সময় বলে সে নাকি তার জীবনে এমন ভালো মানুষ দেখেনি। সে আরো বলছিল এক বাবাকে হারিয়েছে আরেকজন বাবাকে পেয়েছে। সে আমার এখান থেকে বের হয়ে যাবার পর অনেকগুলি চকলেট নিয় আবার ফিরে আসে। তার বাবা নাকি থাকে বলেছিলেন কেউ কিছু উপহার দিলে বিনিময়ে তাকেও কিছু দিতে হয়।

পরমকরুনাময় মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে হাজারো শুকরিয়া এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ এসব অসহায় শিক্ষকদের দুঃসময়ে সেবা করার সুযোগদানের জন্য।