শিশুকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার ১০ কৌশল

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : আলহামদুলিল্লাহ্। করুনাময়ের অপার মহিমায় আমরা ১৫তম সিয়ামের সকাল অতিক্রম করলাম। আজকের বিষয় “আপনার শিশুকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার ১০ টি কৌশল”। পৃথীবিতে আমরা আল্লাহ্ প্রদত্ত যে সকল নিআমত ভোগ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি বা গর্ববোধ করি তন্মধ্যে সন্তান-সন্তুতি অন্যতম। আল্লাহর মনোনীত নবী-রাসূলগণও এই মানবীয় দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। তাইতো যাকারিয়া (আ.) বার্ধক্যে উপনীত হয়েও একাকিত্ব ঘুচানোর জন্য আল্লাহর কাছে সন্তান চেয়ে প্রার্থনা করতে কসুর করেননি। মানবীয় দুর্বলতা থেকে নূহ (আ.) অবাধ্য পুত্রকে নিজের আহলের অংশ বলে দাবী করলেও রাব্বুল আলামীন তা কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিআমত হলেও তা সুসন্তান না হলে ‘ছেড়ে দে কেঁদে বাচ’ অবস্থা হয়ে যায়। তাই আসুন, এই সিয়ামে বা অন্য সময়ে যখনই হোক না কেন আপনার শিশুকে নিম্নোক্ত কৌশল অবলম্বনে সুসন্তানে পরিণত করে চক্ষু শীতল করুন ও পরকালে মাগফিরাতের সুযোগ লাভে ধন্য হোন।

১. আপনার বলন, চলন, বেশভূষা ও কাজে কর্মে সন্তানের জন্য নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলুন। কথা ও কাজে সর্বদা মিল রাখার চেষ্টা করুন।

২. সন্তান আপনার ঘরে যা দেখে ও শুনে তা তার ভবিষ্যত জীবনে কঠিন প্রভাব ফেলে। তাই ঘরকে সালাত, যিকর, কুরআন-হাদীস চর্চা, ও ঈমানের দুর্গে পরিণত করুন। খেলতামাশা ও বেহায়াপনাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিন।

৩. ছোটবেলায়ই সন্তানকে কুরআনেরর সাথে সংযুক্ত করে ফেলুন। বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও হিফজে উদ্বুদ্ধ করুন।

৪. শিশুকাল থেকেই ওকে সঙ্গ দিন। অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখার সকল পন্থা অবলম্বন করুন। কারণ মানুষকে তার সঙ্গী দ্বারাই চেনা যায়।

৫. সন্তানকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিন। তাকে বড় মনের হতে দিন, কখনোই তার সাথে কদর্য ও নীচু আচরণ করবেন না।

৬. সন্তানের পোষাকের ব্যাপারে সচেতন হোন। ইসলাম অনুমোদন করে না এমন পোষাক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। অতিরিক্ত হাসি তামাশা, হালকা আচরণ পরিহার ও সময় জ্ঞানের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তাকে প্রশিক্ষণ দিন।

৭. আল্লাহ্ তাআলার পবিত্র নাম ও বিশেষণ জ্ঞানসহ তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ত্ব সন্তানের অন্তরে গেঁথে দিন।

৮. দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের ও মানুষের কল্যাণে লাগে এমন উপকারী বিদ্যায় তাকে মনোনিবেশ করান। কারণ মৃত্যুর পরেও এর কল্যাণ অব্যাহত থাকবে।

৯. সন্তানের কল্যাণ কামনা করে মহান মাওলার কাছে সর্বদা হাত তুলুন। তিঁনি নিজেই তো চক্ষু শীতলকারী আদর্শ সন্তানের জন্য দুআ করতে শিখিয়ে দিয়েছেন।

১০. সন্তানকে আদর করুন, ওর সাথে খেলাধুলা করুন, ওর প্রতি করুণাময়ী হোন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বকাঝকা করবেন না। তাহলে সে বিগড়ে যেতে পারে যা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। যে কোন উপদেশ দিতে গেলে ওর হৃদয়কে জাগ্রত করুন। সর্বদা ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে তার ভুল সংশোধনের চেষ্টা করুন।

আল্লাহ্ তাআলা রমাদানে আমাদের সন্তানদেরকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন।
রমাদানের শিক্ষা পরিবর্তন নিয়ে আসুক আমাদের প্রাত্যহিক কর্মে, ফিরিয়ে আনুক আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে এই কামনায়। আমীন। (সৌদিআরবের প্রখ্যাত দাঈ আয়েদ আল-ক্বরনীর ভাবনার সাথে লেখকের সমন্বিত ভাবনা)

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।