লায়লাতুল ক্বদরের মর্যাদা ও আমল

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : আলহামদুলিল্লাহ্। করুনাময়ের অপার মহিমায় আমরা ২০তম সিয়ামের সকাল অতিক্রম করলাম। আজকের বিষয় “লায়লাতুল ক্বদরের মর্যাদা ও আমল”। যে সকল কারণে রমাদান মাস সম্মানিত তার মধ্যে অন্যতম হলো এ মাসে লায়লাতুল ক্বদরের উপস্থিতি। আর লায়লাতুল ক্বদরের সম্মান জড়িত হলো এ রাতে মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতরণ। সূরা ক্বদরে এ রাতে কুরআন নাযিল প্রসঙ্গ ও এ রাতের মর্যাদা ১০০০ মাসের চাইতে বেশী তার উল্লেখ রয়েছে।
রাসূল স. ঈমান ও ইহতিসাব তথা ছাওয়াব লাভের নিয়্যাতে ইবাদতের মাধ্যমে এ রাতে জাগরণকারীদের পূর্বের গুনাহ্সমূহ ক্ষমা করার কথা বলেছেন। (সহীহায়ন) আয়শা রা. এ রাতের আমল সম্বন্ধে জানতে চাইলে রাসূল স. اللهم إنك عفو تحب العفو فاعفوا عني “হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ করো, অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও” এ দুআ বেশী বেশী করতে বলেছেন। (তিরমিযী) এ রাতে জেগে জেগে সালাত, যিকির, তিলাওয়াত ও দুআ ইত্যাদি আমলের মাধ্যমে মহান রবের সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস চালানোই মুমিনের কাছে কাম্য।

এ রাতের মর্যাদা ১০০০ মাসের চাইতে বেশী বলার মাধ্যমে এর প্রকৃত মর্যাদা কেমন হবে তা আল্লাহ্ তাআলা নিজ জ্ঞানেই রেখে দিয়েছেন। তার মানে হলো এ রাত যদি নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায় তাহলে তার ছাওয়াব হবে অগণিত। এখন প্রশ্ন হলো এ রাত রমাদানের কত তারিখে। রাসূল স. এ রাত অন্বেষণের জন্য রমাদানের শেষ ১০ রাতে প্রচেষ্টা চালাতে বলেছেন। আবার বিশেষভাবে বেজোড় রাতের কথাও বলেছেন। (বুখারী) তিঁনি নিজেও শেষ ১০ রাতে কোমর বেঁধে পরিবার-পরিজন নিয়ে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তাহলে লায়লাতুল ক্বদর ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ বা শেষ দশকের যে কোনদিন হতে পারে। আলিমগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ২৭ তারিখকে প্রাধান্য দিলেও তা নিশ্চিত করে বলার অবকাশ নেই। মানুষকে একটু বেশী আমলের সুযোগ করে দেয়ার জন্য রাসূল স. কর্তৃক তারিখটি সুনির্দিষ্ট না করাই ছিল হিকমত ও প্রজ্ঞার দাবী।

আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে লায়লাতুল ক্বদরের ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করার তাওফীক দিন। রমাদানের শিক্ষা পরিবর্তন নিয়ে আসুক আমাদের প্রাত্যহিক কর্মে, ফিরিয়ে আনুক আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে এই কামনায়। আমীন।

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।