মনপুরায় নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

মো: অহিদুর রহমান, মনপুরা (ভোলা) : সুপার সাইক্লোন আম্ফান ব্যাপক শক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। এর প্রভাব পড়েছে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার উপকূলে। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি চরসহ নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যা থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। আজ সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে দমকা হাওয়া বইছে।

সুপার সাইক্লোন আম্ফান এর প্রভাবে জলোচ্ছাসের সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতর জলোচ্ছাস ও প্লাাবিত হতে পারে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চর এবং চর নিজামের বেশ কিছু অংশ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। এছাড়া মূল ভূ-খণ্ডের বাহিরে অবস্থিত নিন্মাঞ্চলে অবস্থিত অনেকের বাড়ি ঘর জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

মনপুরা ইউনিয়নের পূর্ব পাশের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জোয়ারের পানির তীব্রতা অনেক বেশি। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতায় জোয়ার প্রভাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোত আর ঢেউয়ের প্রভাবে ঘাটে বাঁধা নৌকা এবং ট্রলারগুলো প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় এক হিন্দু ব্যক্তির ঘাটে বাঁধা ছোট ট্রলারটি ডুবে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পূর্ব পাশের সূর্যমূখী বেড়িবাঁধের ব্যাপক ফাটল দেখো দিয়েছে। জোয়ারের পানির তোড়ে স্লুইজ গেইট সংলগ্ন স্থানটি এখন হুমকীর মুখে। যেকোন মুহুর্তে বেড়িবাঁধটি ভেযঙে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। যদিও বেড়ি বাঁধটি রক্ষার জন্য দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলের নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয়রা।

হাজীর হাট ইউনিয়নের দাসের হাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জোয়ারের পানির তীব্রতা রাস্তায় আছড়ে পড়ছে। এতে করে রাস্তা জোয়ারের পানিতে ভেঙে যাচ্ছে। এখানকার মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, কলাতলীর চর এবং চর নিজামে পানি উঠেছে। আমরা মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি মিসেস শেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, মনপুরার সর্বত্র আমাদের লোক কাজ করছে। মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।
শীর্ষবাণী/প্রতিনিধি/এনএ