`সুস্থতার নিআমত বনাম মানসিক হাসপাতালের খণ্ডচিত্র’

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করা সৌদী আরবের একজন দাঈ দাওয়াতী কাজে বিশ্বের একটি নামকরা দেশে গেলেন। কাজের ফাঁকে অবসরে তার মনে পড়ল সে দেশে একটি প্রসিদ্ধ মানসিক হাসপাতাল বিদ্যমান। সুস্থতা আল্লাহ তাআলার কত বড় নিআমত সে উপলব্ধিকে ঝালাই করার নিমিত্তে সফর সঙ্গীকে ঐ হাসপাতাল পরিদর্শনের আগ্রহের কথা জানালেন। হাসপাতাল পরিদর্শনে যাওয়ার পর পরিচয় পেয়ে কোন একজন চিকিৎসক তাকে রিসিভ করলেন এবং বিভিন্ন কক্ষের পাশ দিয়ে তাকে ঘুরালেন। ঐ হাসপাতালের ২ টি চিত্র স্রষ্টার নিআমতরাজির কথা চিন্তার নিমিত্তে পেশ করা হলোঃ

চিত্র-১: আমি একটি কক্ষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি ঐ কক্ষের দেয়াল তাজা রক্তে রঞ্জিত। ডাক্তারকে বললাম এ কী? তিনি খুব আক্ষেপ করে বললেন, এই কক্ষের রোগীটার রোগ হলো যখনই সে কোন বিল্ডিংয়ের দেয়াল দেখে তখন তার রক্ত গরম হয়ে যায় এবং হাত, পা ও মাথা দিয়ে দেয়ালে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করতে থাকে। দিনশেষে আমরা তাকে হয় মাথা ফাটা অথবা হাত ভাঙ্গা বা পা রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। আমরা কোনভাবেই তার চিকিৎসায় সফল হতে পারছি না।

চিত্র-২: এবার আরেকটি কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নজর পড়ল হাত, পা ও মাথা একত্র করে বসে থাকা একজন রোগীর প্রতি। তিনি পূরো বস্ত্রহীন। আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম লোকটা বস্ত্রহীন কেন? ডাক্তার খুব লজ্জিত হয়ে বলল, এই রোগীর রোগ হলো তাকে যখনই কোন কাপড় পরানো হয় তখনি সে ঐটা দাত দিয়ে ছিড়ে টুকরা টুকরা করে খেয়ে ফেলে। দিনে কখনো ১০ বার তাকে কাপড় পরিয়েও কাজ হয় না। তাই শীত-গ্রীষ্ম ১২ মাসই তাকে এভাবে রাখতে হয়।

শিক্ষণীয়: আল্লাহ তাআলার নিআমতরাজি অগণিত। তিঁনি বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর নিআমত গণনা করে শেষ করতে পারবে না।” (সূরা নাহল, ১৮) সুস্থতা তার মধ্যে বড় একটি নিআমত। আপনি বড় রাজত্বের অধিপতি, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আপনার বিছানার নীচে; কিন্তু আপনি শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ। গোটা পৃথিবীটাই আপনার কাছে মূল্যহীন। আসুন, স্রষ্টার নিয়ামতরাজির কথা চিন্তা করে সিজদায় মস্তক অবনত করি আর তাঁর মহত্ব ও বড়ত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে যাই নিরন্তর!!

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।