সাহিত্যাঙ্গন ছেড়ে ইসলাম চর্চায় আত্মনিয়োগ: মুহাম্মাদ কুতুব বনাম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র.)

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ: কালজয়ী কুরআনিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফী যিলালিল কুরআন’ এর লেখক শহীদ সাইয়্যেদ কুতুবের কনিষ্ঠ সহোদর মুহাম্মদ কুতুব (১৯১৯-২০১৪) ছিলেন সাহিত্যের ছাত্র। পরবর্তীতে আক্বীদা বিষয়ে অধ্যাপনা ও ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার অসাধারণ লেখনীর জন্য তিনি খ্যাত। ‘হাল নাহনু মুসলিমূন’ (আমরা কী মুসলমান?) ও ‘শুবুহাত হাওলাল ইসলাম’ (ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম) তার দুটি অনন্য গ্রন্থ। ১৯৯৪ সালের প্রথম দিকের কথা। আমরা ফাইনাল ইয়ারের শেষদিকে। মদীনার কুল্লিয়্যাতুত তারবিয়ায় একটি কনফারেন্সে মুহাম্মাদ কুতুব প্রধান আকর্ষণ। দর্শকদের প্রশ্নসমূহের মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল সাহিত্য কেন্দ্রিক। প্রশ্নটি হাতে পেয়ে মুচকি হেসে বললেন, ‘তাল্লাকতুল আদাবা মিন যামান’, অর্থাৎ বহু আগেই সাহিত্যাঙ্গন ছেড়ে দিয়েছি। তারপরও উত্তর দিয়েছিলেন। আরেকটি প্রশ্ন ছিল, আপনার জ্যেষ্ঠ সহোদর সাইয়্যেদ কুতুবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের জবাবে কী বলবেন? মুচকি হেসে উত্তর, أجيب عنهم بالسكوت عليهم ‘চুপ থেকেই তাদের উত্তর দিতে চাই’। ছোটবেলায় এলাকায় কোন পীর বা বড় নেতা আসলে মুসাফাহা করার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতাম। সেদিনও ভীড় ঠেলে মুহাম্মাদ কুতুবের সাথে মুসাফাহা করলাম। কী অসাধারণ হাসি এবং স্নেহশীল দুআ!
এবার আসি ড. আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীরের কথায়। অনার্স, মাস্টার্স, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি সবকিছুই সাহিত্যে হলেও এ বিষয়ে আর কোন কাজ করেননি। একদিন আমাকে তার পিএইচ.ডি থিসিস দেখালে জানতে চাইলাম এ বিষয়ে আর কিছু করবেন কি না? না সূচক জবাব দিয়ে বললেন, কোন লাভ নাই। একদিন বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মা’বুদ স্যার জাহাঙ্গীর ভাইকে ওখানে জয়েন করার জন্য উৎসাহিত করলে উত্তরে তিনি বলেছেন, হাদীস ছেড়ে সাহিত্যে যাওয়ার আগ্রহ নেই। হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহর এই দুই সূর্যসন্তানকে তুমি জান্নাতের মেহমান বানাও এবং সাথে সাথে আমাদেরকেও ক্ষমা করে দাও। আমীন!!

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।