শেখ হাসিনা সরকারই ১৯৯৭ সালে ইনডেক্সে বেতন চালু করেছিলেন, এখন ইএফটিএন

অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ এর নির্বাচনে বলেছিলেন শিক্ষার চেয়ে বড় কোন বিনিয়োগ হতে পারে না। তিনি রাষ্ট্রীয় উৎপাদনের ৪ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করার কথা বলেছিলেন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর নির্বাচনী ওয়াদার কথা ভূলে যাননি। তিনি ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় বাজেটেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। যে মুহূর্তে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে ব্যাংক শুন্য ছিল, গোডাউনে কোন খাদ্য মজুত ছিল না, যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলায় সারা বাংলাদেশ যখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল সেই চরম প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু সেদিন শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে এদেশে শিক্ষার ভীত রচনা করেছিলেন।

তিনি বিশ্বের উপযোগী একটি তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সার্বজনীন আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সর্বজন গ্রহণযোগ্য শিক্ষক ডক্টর কুদরত ই খুদার নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। পচাত্তরের পনের আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেই শিক্ষা নীতি আর আলোর মুখ দেখেনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর তিনি শিক্ষাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে শিক্ষা নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গঠিত হয় সামসুল হক শিক্ষা কমিশন।

১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা সরকার বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারিদের যার যার ইনডেক্সে বেতন প্রদান চালু, স্ব স্ব একাউন্টে সরকারি বেতন পাঠানোর যুগান্তকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। এর আগ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান (স্কুল,কলেজ,মাদরাসা) ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে তাঁরা বিভিন্ন খরচ বাবাদ একটা অংশ রেখে বাকি টাকা শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। এর ফলে শিক্ষকরা বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতেন টাকাও কম পেতেন।

২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বাগ্রে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বজনগ্রহণযোগ্য একটি শিক্ষা নীতি উপহার দেন। এখন আবার শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন উঠানো আরো সহজতর করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে EFTN এর মাধ্যমে নিজ নিজ একাউন্টে বেতনের টাকা পৌঁছে দেওয়ার যুগান্তরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ফলে কোনরকম হয়রানি ছাড়া দেশের পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারী আধুনিক পদ্ধতিতে অতি সহজে যার যার বাড়িতে বসেই তাদের বেতন গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণও আরো একধাপ এগিয়ে গেল। ধন্যবাদ শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ধন্যবাদ মাননীয় অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, অর্থসচিব সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

উল্লেখ্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১২ সাল থেকেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টে অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেছিলেন। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা অনলাইনে আবেদন করে নিজ নিজ বাড়িতে বসেই কল্যাণ সুবিধার টাকা পাচ্ছেন। কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর বোর্ডের আর্থিক সংকট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৬৭৭ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। অতীতে কোন সরকার এক টাকাও দেয়নি। গত দুই বছর আগে থেকেই আমরা EFTN এর মাধ্যমে কল্যাণ সুবিধার টাকা প্রদান করে আসছি। অবসর সুবিধা বোর্ডও একই পদ্ধতিতে সেবা প্রদান করে আসছে।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ও সদস্য সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট