‘রমাদানে কেমন হওয়া চাই মুমিনের পরিবার’

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : আলহামদুলিল্লাহ্। করুনাময়ের অপার মহিমায় আমরা ১৪তম সিয়ামের সকাল অতিক্রম করলাম। আজকের বিষয় “রমাদানে কেমন হওয়া চাই মুমিনের পরিবার”। রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত, সবর, তাক্বওয়া, তাওবা, দান-খয়রাত ও সহমর্মিতার বারতা নিয়ে রমাদানের আগমন। ব্যক্তি মুমিন এ সকল গুণাবলী কি শুধু নিজেই অর্জন করবেন, না তার অধীনস্ত পরিবারের সবাইকে নিয়েই এগুলো অনুশীলন করবেন। প্রত্যকটি আদম সন্তানই ফিতরাত তথা স্বভাবগতভাবেই দ্বীনের উপর জন্ম গ্রহণ করে। পিতামাতার শিক্ষা দ্বারা পরবর্তীতে সে পরিশুদ্ধ বা পথহারা হয়।

তাই রাসূল স. সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের সালাতের নির্দেশ দিতে বলেছেন। (আহমাদ ও আবু দাউদ)। এ হাদীসের শিক্ষা নিয়ে বাচ্চাদের সিয়াম সাধনায় শারীরিক বা মানসিক কোন ক্ষতির আশংকা না থাকলে ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে সিয়ামের অনুশীলন করানো উচিত। আল্লাহ্ তাআলা মুমিনদেরকে ডেকে বলছেন “তোমরা নিজেদেরকে ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করো”। (তাহরীম, আয়াত-৬)

হাদীসে বলা হয়েছে, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সহীহায়ন) অতএব একটা দ্বীনি পরিবার গঠনের জন্য একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন দ্বীনবার বাবা ও একজন পরিশুদ্ধ আত্মার ধার্মিক মা প্রয়োজন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেকেই এমন আছেন সারাক্ষণ ধর্মের লেবাসে আবৃত হয়ে তাছবীহর দানা গুণে সময় পার করেন; কিন্তু স্ত্রী, ছেলে বা মেয়ে কোথায় কী করছে খবর রাখে না। আবার কখনো এমন হয় যে, তার চোখের সামনেই সালাত, সিয়াম পরিত্যাগ করে অশ্লীল গান-বাজনা শুনে বা ফেইসবুকে অনর্থক সময় নষ্ট করে দিন পার করে দিচ্ছে। এতে তার অনুভূতিতে মোটেও প্রভাব পড়ে না। এদের দ্বীন পালন আর যা হোক না কেন রাসূল স. প্রদর্শিত দ্বীন সেটা নয়।

রমাদানে মুমিন পরিবারে যিকর, তেলাওয়াত, কুরআন চর্চা, সময়মত সালাত, ক্বিয়ামুল লায়ল, ইফতার ও সাহরীর পাশাপাশি যেমন সিয়ামে মহান রবের সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হওয়া যাবে, জান্নাতের রাইয়্যান দরজা দিয়ে প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে এবং জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে তেমন সিয়াম সাধনার প্রয়াস চালাতে হবে। তাহলেই কেবল রমাদান পেয়েও গুণাহ মাফ না হওয়া হতভাগাদের তালিকা থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যের নাম কাটানো সম্ভব হবে।

আল্লাহ্ তাআলা রমাদানে আমাদেরকে তাঁর চাওয়া মোতাবেক তাক্বওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত একটি ইসলামী পরিবার গঠন করার তাওফিক দান করুন। রমাদানের শিক্ষা পরিবর্তন নিয়ে আসুক আমাদের প্রাত্যহিক কর্মে, ফিরিয়ে আনুক আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে এই কামনায়। আমীন।

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।