ময়মনসিংহে বিরোধীয় জমি দখলের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় হামলা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহে চড় কালিবাড়ি এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে গিয়ে বসতঘরে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা-ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে বাড়ির মালিকের ছোট ভাই এনাম তালুকদার গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ শহরের চড় কালীবাড়ি রোডে স্থানীয় সন্ত্রাসী হাবিবুল্লাহ ও তার স্ত্রী পারভিনের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও র‌্যাব বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে হামলায় আহত এনাম তালুকদারকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের চড় কালীবাড়ি রোড়ে মসরুর আহমেদ তালুকদারের ক্রয়কৃত জমি নিয়ে হাবিবুল্লাহ’র সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ এবং আদালতে মামলা চলছে। যার জের ধরে গত শুক্রবার সকালে মসরুর আহমেদ তালুকদারের ছোট ভাই এনাম তালুকদারকে বাড়িতে একা পেয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী হাবিবুল্লাহ ও তার স্ত্রী পারভিন দলবল নিয়ে বাড়ির একাংশ দখল করে জোরপূর্বক মাটি ভরাটের চেষ্টা করছিল। দখলে বাধা দিলে হামলা-ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

এসময় ভিক্টিম ফেসবুক লাইভ করলে সন্ত্রাসীরা তাদের কুকর্ম প্রকাশের ভয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এনাম তালুকদারের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপুর্যুপরি আক্রমণ চালায় এবং আইনের দ্বারস্থ হলে হত্যার হুমকি দেয়। হামলায় এনাম তালুকদার গুরুতর আহত হন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় মহিলা দুষ্কৃতিকারী পারভিনের সঙ্গে ছিলেন তার ভাড়াটে চামচা ও জমির দালাল নামে পরিচিত আব্দুল রাজ্জাক এবং কৃষ্ঠপুর এলাকার ভাড়াটে অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী।

জানা গেছে, হাবিবুল্লাহর স্ত্রী পারভিন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। আর এভাবেই গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ।

এলাকাবাসী জানায়, জমিটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে একটি মামলা চলছে। মামলা চলাকালীন উভয় পক্ষকে সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধ করেছে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের আদেশ অমান্য করে তারা বাড়িটি দখল ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।

এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারভিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তাঁরা। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।

আহত এনাম তালুকদার সাংবাদিকদের ঘটনার দিন জানান, তাঁর আত্মীয়রা ঢাকায় থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। তার আত্মীয়-স্বজন এসে মামলা করবেন বলে জানান। একইসঙ্গে তিনি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান। তাই পুলিশসহ প্রশাসনের সাহায্য কামনা করেছেন। অভিযোগের ব্যাপারে হামলাকারী হাবিবুল্লাহ ও তার স্ত্রী পারভীনের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।