`মনের অজান্তেই যে সকল ভুলে নিমজ্জিত হয় রোযাদার’

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ: আলহামদুলিল্লাহ্। করুনাময়ের অপার মহিমায় আমরা ১৮তম সিয়ামের সকাল অতিক্রম করলাম। আজকের বিষয় “মনের অজান্তেই যে সকল ভুলে নিমজ্জিত হয় রোযাদার”। আমরা আগেই বলেছি যে, নিছক পানাহার ও যৌনসম্ভোগ পরিত্যাগের নামই সিয়াম নয়। সিয়াম যেহেতু মানুষকে মুত্তাকী বা আল্লাহ্ সচেতন হিসেবে গড়ে তোলার একটি প্রশিক্ষণ তাই এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে রোযাদারের কোন কাজই যেন অনর্থক বা আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশনাবলীর বাইরে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা অত্যাবশ্যক।

রোযাদার সাধারণত যে ভুলগুলো করে তাহলো
# দু’চারজন বন্ধু-বান্ধব একত্রিত হলেই অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে গীবত চর্চায় লিপ্ত হওয়া। শয়তান এটাকে খুব স্বাভাবিক কাজ হিসেবেই সবার সামনে হাজির করে; কিন্তু এর পাপ এত কঠিন যে শুধু রোযাকেই সে ধ্বংস করবে না, বরং গীবতের বিনীময়ে অনেক নেক আমল গীবতকৃত ব্যক্তিকে পরকালে দিয়ে দিতে বাধ্য করা হবে গীবতকারীকে।

# ইবাদত বন্দেগী না করে অকারণে রাত জেগে সারাদিন ঘুমিয়ে রোযা পার করে দেয়া। যাতে রোযার কষ্ট অনুভব না হয়। শুধুমাত্র সালাত আদায়ের জন্য উঠা আবার ঘুমিয়ে যাওয়া। এতে বাহ্যিকভাবে সিয়াম শুদ্ধ হলেও সিয়ামের আধ্যাত্মিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে রোযাদার। কোন কোন নির্বোধ এমনও আছে যারা সিয়াম পালন করে, কিন্তু ফরজ সালাতও আদায় করে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চিন্তা না করে শুধুমাত্র সিয়ামের স্বাস্থ্যগত সুবিধা লাভের জন্য রোযা রাখলে তা কোনভাবেই শুদ্ধ হবে না।

# অনেকে এমন আছেন যে, সিয়ামের মাসকে খাদ্যোৎসবে পরিণত করেন। বাহারী ইফতার, সাহরী নিয়েই ব্যস্ত। কখনো এমনও হয় যে ৫ জনের জন্য ১০ জনের খাবার তৈরী করে প্রয়োজনীয়টুকু কাজে লাগিয়ে বাকীটুকু ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সাবধান! অপচয়কারীকে শয়তানের ভ্রাতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে।

# আবার কেউ কেউ এমনও আছেন, নিজে অনেক খাবার তৈরী করলেও প্রতিবেশী ক্ষুধার্তদের খবর রাখেন না। এমতাবস্থায় সিয়ামের শিক্ষাতো দূরে থাক ঈমান থাকবে কি না তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে হাদীসে।

# কেউ কেউ নামীদামী ব্রাণ্ডের পোষাক ক্রয়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন (যদিও করোনার কারণে এ বছর সম্ভব নয়); কিন্তু তার প্রতিবেশীর লজ্জাস্থান আবৃত করার সম্বলটুকুও নেই।

# রাসূল স. নিয়মিত তারাবিহ পড়েন নাই এই অজুহাতে তারাবিহ পরিত্যাগ করে সুন্নাত পালন করেন অনেকে, অথচ রাসূল স. রমাদানে সিয়াম ও ক্বিয়াম দু’টির উপরই গুরুত্বারোপ করেছেন। তারাবিহ পরিত্যাগ করে সুন্নাত পালন করতে হলে প্রত্যেক রাতে রাসূলের (স.) ন্যায় রাত জেগে ইবাদত করতে হবে।

এছাড়াও অসংখ্য ভুলে ভরা আমাদের সিয়াম। আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে তাঁর চাওয়া মোতাবেক সিয়াম সাধনার তাওফীক দিন। রমাদানের শিক্ষা পরিবর্তন নিয়ে আসুক আমাদের প্রাত্যহিক কর্মে, ফিরিয়ে আনুক আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে এই কামনায়। আমীন।

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।