বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা জনস্বার্থ পরিপন্থী: ন্যাপ

ঢাকা অফিস : সারাদেশে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের ওপর মনগড়া ভুড়ে বিল চাপিয়ে দেয়ায় মধ্য দিয়ে জনগণকে দুঃসহ কষ্টের মধ্যে নিপতিত করেছে। এর মধ্যে আবারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বছরে একাধিকবার বৃদ্ধির জন্য সংসদে বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে সরকার মূলত জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করছেন বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহকরা ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের জন্য যে বিল পেয়েছেন তার সাথে মিটার রিডিংয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং পূর্ববর্তী মাসের সাথে তা পরিপেূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। একেবারেই মনগড়া বিল গ্রাহকদের পরিশোধের জন্য দেয়া হয়েছে, যা জনগনের সাথে প্রতরণার শামিল।

নেতৃদ্বয় বলেন, করোনাকালে গত তিন মাস যাবৎ মানুষ প্রায় আয়-রোজগারহীন। অনেক চাকরিজীবী তাদের কর্ম হারিয়েছেন নতুবা আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অধিকাংশ মানুষের সাধারণ জীবনযাপনেও নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর এ আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। অবিলম্বে মনগড়া ভুতুড়ে বিল প্রত্যাহার করে মিটার রিডিং অর্থাৎ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে বিল প্রদানের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার তথা বিলম্ব সুদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানান।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় এই করোনাকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বছরে একাধিকবার বৃদ্ধির জন্য সংসদে যে বিল উত্থাপিত হয়েছে তাকে সম্পূর্ণ জনস্বার্থ বিরোধী হিবেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০০৩ সালে পাশ হওয়া বিদ্যমান আইন কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, কিন্তু মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত আইন কার্যকর হলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বছরে এক বা একাধিকবার বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানির মূল্য পরিবর্তন করতে পারবে। বছরে বারবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিল পাস মানে গরিবদের সলিল সমাধি রচনা করারই নামান্তর।