পৃথিবীর অর্ধেক পাখি দেখার রেকর্ড বাংলাদেশি ‘পাখিকন্যার’

ঢাকা অফিস : পাখির জন্য মায়া দেখিয়ে ব্রিটেনের বুকে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী মায়া-রোজ ক্রেইগ নতুন রেকর্ড গড়ার কথা জানিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি থেকে সবচেয়ে কম বয়সে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা মায়া মাত্র ১৮ বছর বয়সে ৫ হাজার প্রজাতির বেশি পাখি দেখে ফেলেছেন!

পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের জন্য মায়া ব্রিটেনে রীতিমতো তারকা। ১১ বছর বয়স থেকে নিজের ব্লগে পাখিদের নিয়ে লেখালেখি শুরু করে আলোচনায় আসেন। বিবিসি, গার্ডিয়ানের মতো বিখ্যাত সব গণমাধ্যমে তার বড় বড় সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মায়া-রোজের মা হেলেনা আহমেদ সিলেটের মেয়ে আর বাবা ক্রিস ক্রেইগ ব্রিটিশ। যুক্তরাজ্যের সমারসেটে বসবাস তাদের।

শুক্রবার কান্ট্রি লিভিংয়ে মায়ার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। পৃথিবীর সর্বকনিষ্ঠ টুইচারের রেকর্ড গড়া মায়া ম্যাগাজিনটিকে বলেন, ‘ছোট থেকে আমি পাখি দেখি। ১১ বছর বয়সে আমার ব্লগ শুরু করেছিলাম। এখন তাতে ৪৯ লাখের বেশি ভিউ। আমার বয়স এখন ১৮, সবচেয়ে কম বয়সে আমি পৃথিবীর অর্ধেক পাখি দেখার রেকর্ড গড়েছি, ৫ হাজারের বেশি! আরও বৈচিত্র্যময় বাস্তুসংস্থান তৈরিই আমার সত্যিকারের মিশন।’

মায়া ব্রিটেনের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে অশ্বেতাঙ্গদের নিয়ে একটি অলাভজনক সংগঠন দাঁড় করিয়েছেন। ব্যাক২নেচার (ব্যাক টু নেচার) নামের সেই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট তিনি।

২০১০ সালে মায়াকে নিয়ে বিবিসি ফোর চ্যানেল ‘টুইচার্স: আ ভেরি ব্রিটিশ অবসেশন’ নামে ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে। সেই থেকে তার পাখি দেখার নেশা আরও বেড়ে যায়। পাখির সন্ধানে বেশ কয়েকবার তিনি বাংলাদেশেও এসেছেন।

মায়ার ব্লগের একটি লেখা থেকে জানা গেছে, চামচঠুঁটো বাটান পাখির জরিপে একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। চামচঠুঁটো বাটান পাখির বাস রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে। শীতকালে বাংলাদেশে আসে পাখিটি। পৃথিবীতে মাত্র শ দুয়েক এই জাতের পাখি আছে। মায়া বাংলাদেশের দক্ষিণের সোনাদিয়া দ্বীপে চামচঠুঁটো বাটান পাখিকে অনুসরণ করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি চমকে যান।

এক দিনে ১৯টা চামচঠুঁটো বাটান পাখির দেখা পান। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যও মুগ্ধ করেছে তাকে। মায়া জানান, ছোট্ট একটা দেশে চামচঠুঁটো বাটান পাখির ১০ শতাংশ দেখে তিনি মুগ্ধ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ঐতিহ্য মায়াকে ভীষণ টানে। নিজের ব্লগে দেশের স্বাধীনতা নিয়ে লেখালেখি আছে তার।

২০১৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে লেখা ব্লগপোস্টে মায়া বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃতির কারণে পাকিস্তান যুদ্ধে হেরে যায়। বিষয়টি দারুণ মজার।

‘১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। কিন্তু নভেম্বর আসার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়নি।’

‘আমি শুনেছি জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর কৌশলে তারা মার খায়। মজার বিষয় হলো, প্রকৃতির ওপর বাংলাদেশিদের জ্ঞান বিশেষ করে নদী বিষয়ক অভ্যাসই এই যুদ্ধ জিততে সাহায্য করেছে। আমি কখনো এসব (প্রকৃতি) নিয়ে কাউকে কথা বলতে শুনিনি।’