নৌযান শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবি মানা সম্ভব নয়: সংবাদ সম্মেলনে মালিক পক্ষ 

ঢাকা অফিস : ১১ দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ’ যে ধর্মঘট শুরু করেছে তা অবৈধ ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন নৌযান মালিকরা।

আজ সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ার-এর একটি হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের ধর্মঘটকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এস.পি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) ও ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির এর উদ্যোগে নৌযান শ্রমিকদের অযৌক্তিক ধর্মঘটের বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন এর সকল জাহাজ মালিক বৃন্দ। এ সময় সংগঠনের অন্যতম সংগঠক রাকিবুল আলম দিপু, সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি খোরশেদ আলম সহ নৌযান মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্কেলের ন্যায় বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা, ইনক্রিমেন্ট, ধোলাইভাতা, উৎসব বোনাস, গ্রাচুয়েটি, ছুটির বেতন, রান্না করার জ্বালানী, রান্না করার জন্য মালিক কর্তৃক বাবুর্চি নিয়োগ, তেল, সাবান সহ সরকার কর্তৃক নৌযান শ্রমিকদের জন্য গঠিত মজুরী কাঠামো অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে মালিক পক্ষ। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ মজুরী কাঠমোর মেয়াদ রয়েছে। তাছাড়া ২০১৬ সালে সরকার কর্তৃক জাতীয় পে-স্কেলর উপর ১১৩ শতাংশ বেতন ভাতা বৃদ্ধি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়, সরকারি নির্ধারিত সে বেতন-ভাতা প্রদান করে আসছে মালিক পক্ষ। এরপরও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ এর ধর্মঘট অসৌজন্যতা ছাড়া কিছুই নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, করোনাকালে এমনতেই মালিকপক্ষে লোকসানে রয়েছেন। ধারাবাহিক এ লোকসানের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন ভাতা চালিয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ১১ দফা মানা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন ছাড়াও কোস্টাল শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওয়েল ট্যাংকার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স এসোসিয়েশন এবং লঞ্চ ওনার্স এসোসিয়েশনও নৌযান শ্রমিকদের অযৌক্তিক কর্মবিরতি প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক।