দুদকের তলব আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুপার রিট

ঢাকা অফিস : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপার পক্ষে রিট করা হয়েছে।

রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটে দায়ের করেন। তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন সুরাইয়া বেগম।

তিনি জানান, এ বিষয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশেনর চেয়ারম্যান, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান এবং তদন্ত-২) এবং উপরিচালককে (বিশেষ অনুসন্ধান এবং তদন্ত-২) বিবাদী করা হয়েছে।এছাড়া, রিট আবেদনে নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ঘুষগ্রহণের মাধ্যামে আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডেপুর্টি এটর্নী জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপাকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সংস্থাটির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সই করা নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টে রুপার ঠিকানায় পাঠানো হয়। নোটিশে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ৪ঠা নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। এদিন তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি ও নথিপত্রসসহ যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, ডেপুটি অ্যার্টনী জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে জিকে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সঙ্গে আঁতাত করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এসবের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ ও ৬ই ফেব্রুয়ারি মাদক ও অস্ত্র মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান জি কে শামীম। তবে জামিনের বিষয়টি গোপন থাকায় গণমাধ্যমে আসেনি। অবশ্য ঘটনার এক মাস পর তা জানাজানি হলে সর্বত্র হইচই পড়ে যায়। পরে ৮ই মার্চ হাইকোর্ট বেঞ্চ আবার রিকল করে জামিন প্রত্যাহার করেন। জামিন ও জামিন প্রত্যাহার উভয় সময়ই রাষ্ট্রের পক্ষের দায়িত্ব পালন করেন জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা। তিনি শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুপা জানান, নাম বিভ্রাটের কারণে জি কে শামীমকে জামিন দেওয়া হয়। এ নিয়ে পরবর্তীতে নানা মহলে আলোচনাও হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে দুদকেরও। দুদকের একটি সূত্র জানায়, শেষে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা সঙ্গে ঠিকাদার জি কে শামীমের মামলায় গোপন জামিনে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও আরো কিছু আসামিকে ঘুষ নিয়ে জামিনে সহায়তা করেন। এসব অভিযোগ আমলে নিয়েই দুদকে অনুসন্ধান শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর শামীমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগেও মামলা রয়েছে। গত বছরের ২১শে অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দায়ের করা ওই মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগ আনা হয়।