চার বছরে ট্রাম্পের যত উদ্ভট আচরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যস্ত ট্রাম্প গত চার বছরে বক্তব্য-বিবৃতির ক্ষেত্রে প্রথাগত নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি কখনও। ধার ধারেননি দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা কূটনৈতিক প্রটোকল। যখন যা মনে এসেছে, মুখের ওপর বলে দিয়েছেন সরাসরি।

টুইট করে অযোগ্যের প্রশংসা ও যোগ্যের নিন্দা করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ পরীক্ষিত মিত্রদের ওপর হামলে পড়তেও ছাড়েননি। ট্রাম্পের তেমনই কিছু বিবৃতি তুলে ধরা হল। এএফপি।

পুতিনের প্রশংসা : মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে হতবুদ্ধি করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনকে বিভিন্ন সময় প্রশংসার বানে ভাসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালে নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন পুতিন হচ্ছেন বিশ্বজুড়ে ‘খুবই সম্মানীত’ ব্যক্তি।

২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দু’জনের প্রথম সরকারি সাক্ষাতে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তেক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিপরীতে গিয়ে পুতিনের পক্ষে অবস্থান নেন ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তিনি এই মাত্র আমাকে বলেছেন রাশিয়া কিছু করেনি। আজকে প্রেসিডেন্ট পুতিন এ বিষয় খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন।

কর্তৃত্ববাদী একনায়করা বেশি ভালো : উদার গণতন্ত্রের সহযোগী নেতাদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে ট্রাম্প একনায়ক মনোভাবধারী নেতাদের প্রশংসা করেন। তাদের সম্পর্কে বলেন, ‘যত বেশি কঠোর তত বেশি ভালো।’

অনেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে বিপজ্জনক বলে তার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যে সম্পর্কগুলো রক্ষা করি সেগুলো খুবই মজার। যত কঠোর ও রুক্ষ তারা হোন, তত ভালোভাবে আমি তাদের সঙ্গে মিশে যেতে পারি।’

ভিন্নমতাবলম্বী সৌদি লেখক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরব চাপে পড়লে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে রক্ষা করেছি।’ ২০১৯ সালে মিসরের জেনারেল থেকে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে স্বাগত জানানোর সময় ট্রাম্প খুশিতে গদগদ হয়ে বলেন, ‘আমার প্রিয় একনায়ক কোথায়?’

কিম জং উনের সঙ্গে প্রীতি : পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর স্বৈরশাসক হিসেবে মানবাধিকার কর্মীরা বিবেচনা করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে। তার সম্পর্কে কিছু বাগাড়ম্বর করলেও শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে প্রীতি ও ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হামলার হুমকি দেন তিনি। তারপর কিমকে ক্ষুদে কামান বালক (লিটল রকেট ম্যান) বলে বিদ্রূপ করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে নিজেদের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন ‘আমরা প্রেমে পড়ে গেছি। তিনি আমাকে সুন্দর অনেক চিঠি লিখেছেন।’

চীনা নেতার বিষয়ে হঠাৎ নরম-গরম : ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় জড়িয়েছেন চীনের সঙ্গে। বাধিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যযুদ্ধ, যার সমাধান আজও হয়নি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে অনেক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

কিন্তু চীনে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের পর তিনি টুইট করেন ‘শি ছিলেন তীক্ষ্ম ও শক্তিশালী এবং ভাইরাসটির দিকে ভালোভাবে নজর দিয়েছেন। রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘খুবই সফল অপারেশন’ চালিয়েছেন।

কিন্তু যখনই ভাইরাসটিকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয় ও মৃত্যু ঘটনায় তখন তিনি শি’র বিরুদ্ধে ভয় ও হত্যা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ আনেন। প্রায়ই একে চায়না ভাইরাস বলে অভিহিত করেন।

মিত্রদের ওপর আক্রমণ : ট্রাম্প আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর ওপর নানা আক্রমণ করেন। জার্মানির অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের টুইটে অভিযোগ করেন, তিনি মার্কিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যাচ্ছেন। নিউজিল্যান্ডের জাসিন্দা আরদার্নের বিরুদ্ধে মার্কিন পণ্যে কর নিয়ে বলেন, ‘খুবই অসৎ ও দুর্বল’।

এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র বিরুদ্ধেও কথা বলেন ট্রাম্প। লন্ডনের মুসলিম মেয়র সাদিক খানের সমালোচনা করেন এবং মন্টিনিগ্রোর মানুষকে আক্রমণাত্মক বলেন ট্রাম্প। এছাড়া গত চার বছরে ট্রাম্প আরও বিভিন্ন দেশ ও নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথা বলেছেন।