চরফ্যাশন পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে নেই রোড লাইট, বাড়ছে দুর্ভোগ

আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন: চরফ্যাশন পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নির্জন অধিকাংশ রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটিড়ুলো দাঁড়িয়ে থাকলেও নেই প্রয়োজন অনুপাতে রোড লাইট৷ অধিকাংশ খুঁটিতে রোড লাইট দেখা গেলেও অন্ধকারে আলো দেওয়ার সক্ষমতা নেই ওইসব লাইটগুলোর৷ নষ্ট হয়ে গেছে অনেকদিন আগেই৷ এসকল নির্জন রোডে চুরি, ছিনতাই, মাদকের হাত বদল, ইভটিজিং, চলাচলে নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে৷

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চরফ্যাশন পৌর শহর ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভা ২নং ওয়ার্ড হেলিপ্যাড সংলগ্ন পূর্ব দিকের রাস্তার মাথা থেকে কালিয়াকান্দি বাজার পর্যন্ত, গাড়ি ওয়ালাদের মোড়ের পূর্ব পাশে অসংখ্য আঁকাবাঁকা রাস্তায়, ৮নং ওয়ার্ড জনতা রোড পূর্ব মাথা লঞ্চ ঘাট ব্রিজ থেকে পূর্ব দিকে নুরুল ইসলাম কোম্পানি বাড়ি হয়ে দুদু মিয়ার ব্রিজ পর্যন্ত, ৭নং ওয়ার্ড থানা রোড ব্রিজ থেকে দক্ষিণ দিকে বিআরডিবি ব্রিজ হয়ে কুতুবগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত, ৫নং ওয়ার্ড শরিফ পাড়া হাসপাতাল রোডের মাথা থেকে পশ্চিম দিকে খাল সংলগ্ন পৌরসভার পশ্চিম মাথা পর্যন্ত এবং এসকল রাস্তার অধিকাংশ শাখা রাস্তাগুলোতেও প্রয়োজন অনুপাতে কোন রোড লাইট দেখা যায়নি৷ রোড লাইট না থাকায় অপরাধী চক্র এসমস্ত রাস্তাগুলো বেছে নিচ্ছে৷

পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম মেলেটারি জানান, আমাদের এলাকায় প্রায়ই চুরি, ছিনতাই ও অপকর্মের ঘটনা শোনা যাচ্ছে৷ কিছুদিন পূর্বে আমার ছোট ভাইয়ের ঘরে চুরি হয়েছে, চোরকে ধাওয়া দিলে রোড লাইট না থাকায় চোর পালানোর গতিবিধি লক্ষ করা সম্ভব হয়নি৷ কাউন্সিলর ও মেয়রকে একাধিকবার বলেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক বাসিন্দা বলেন, আমি বাসা করার সময় প্ল্যান অনুমোদন করতে পৌরসভাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি৷ এখন প্রতিবছর পৌর টেক্স, পানি বিলসহ পৌরসভার চাহিদামত পাওনা পরিশোধ করার চেষ্টা করছি৷ কিন্তু আমাদের “ক” শ্রেণির পৌরসভার সুবিধা সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারছে না৷ অধিকাংশ রাস্তায় রোড লাইট না থাকায় রাতের ঘন আধারে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। চরফ্যাশন পৌর শহরকে অপরাধ প্রবণতা থেকে মুক্তি, নির্বিঘ্নে, নিরাপদে চলাফেরা ও বসবাসের ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি৷

এ বিষয়ে চরফ্যাশন পৌর মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, আমাদের পৌরসভার বর্তমান আয়তন ১৯ দশমিক ৭৫ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। “ক” শ্রেণির পৌরসভার সুবিধা সকলকে দিতে পেরেছি সে কথা বলবো না৷ তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উল্লেখ্য জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করব৷
শীর্ষবাণী/এনএ