চরফ্যাশনে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের মেম্বার নান্নু মিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

এম. মিজানুর রহমান, চরফ্যাশন : ভোলার চরফ্যাশনে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার নান্নু মিয়ার বিরুদ্ধে চরফ্যাশন পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডে দিল মোহাম্মদের ছেলে মাকসুদ বাদী হয়ে মোকাম চরফ্যাশন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মৌজাঃ ওমরাবাজ, জে.এল নং ৯৭, বন্দোবস্ত খতিয়ান ৭৫৫, দাগ নং- ৫৬২১, ৫৬২৪, ৩ একর জমি নিয়ে ৭নং ওয়ার্ডের দিল মোহাম্মদের ছেলে মাকসুদ বাদী হয়ে হাজারীগঞ্জ সাকিনের নান্নু বেপারী ও মাহাবুবুল আলমকে বিবাদী করে গত ১৯ আগস্ট মোকাম চরফ্যাশন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে। যার নং- ১০৬/২০।

বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের হাকিম মোঃ রুহুল আমিন উক্ত জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শশীভূষণ থানাকে ও জমির দখল বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

নান্নু মেম্বার জানান, ওমরাবাজ মৌজার বন্দোবস্তীয় ৪১৮এফ/০২-০৩ ও ১০৪৪এফ/০৪-০৫ কেইসের অনুবলে ৫৬২১/১, ৫৬২৪ দাগে ৩ একর জমি বন্দোবস্ত নিয়ে ভোগ দখলে আছেন। উক্ত জমি নিয়ে চরফ্যাশন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মতিউর রহমানের ছেলে ছাদেক ওরফে জসিমের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। ছাদেক বাদী হয়ে মোকাম চরফ্যাশন সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী ২৩৮/০৬ মামলা দায়ের করলে আদালতের বিজ্ঞ সহকারী জজ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ২০১৭ সালে আমাদের পক্ষে রায় দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ আমরা উক্ত জমি ভোগ দখলে আছি।

গত ২৫ আগস্ট শশীভূষণ থানার এ.এস.আই দুলাল এর মাধ্যমে জানতে পারলাম চরফ্যাশন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের জনৈক মাকসুদ আমার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ছাদেক ওরফে জসিম জাল জালিয়াতি করে তার জন্মের পূর্বের তারিখ দিয়ে উক্ত জমি বন্দোবস্ত কাগজপত্র সৃজন করেছে। জাল জালিয়াতি করে ছাদেক ওরফে জসিম তার নামে বিভিন্ন জায়গায় জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে উক্ত জালিয়াতি চক্রের সঠিক বিচার কামনা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ নান্নু মেম্বার গংরা উক্ত জমি ভোগ দখলে আছেন। ছাদেক ওরফে জসিম মাওলানা নামের কোনো লোককে আমরা চাষাবাদ করতে দেখিনি।

ছাদেক ওরফে জসিম জানান, ওমরাবাজ মৌজার বন্দোবস্তীয় ১৬৬৩এফ/৬৭-৬৮ কেইসে আমার পিতা আমার নামে ৩ একর জমি বন্দোবস্ত নেয়। নান্নু বেপারী গং উক্ত জমি জোরপূর্বকভাবে দখল করে আছে। তাদের কোন কাগজপত্র নেই।

শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ চরফ্যাশন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ১০৬/২০ মামলার আদেশের কপি ১০১ নং স্মারকে আমার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করার জন্য এ.এস.আই দুলাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত করে প্রতিবেদন কোর্টে পাঠানো হবে।
শীর্ষবাণী/এনএ