চরফ্যাশনে বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত পিরানহা মাছ

আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন : “রূপচাঁদা” মাছ হিসেবেই আমাদের লোকাল মাছের বাজারসহ মৎস আড়ৎ ও বাজারে প্রতিনিয়তই ক্রয়-বিক্রয় হয় বিষাক্ত পিরানহা মাছ। এ মাছ প্রতি কেজি অনেক কম মূল্য এবং স্বাদ একটু বেশি থাকার কারণে সাধারণ মানুষের নিকট অনেকটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অনেকের পছন্দের তালিকায় আছে এ মাছ। স্থানীয় মৎস ব্যবসায়ীরা পিরানহা মাছকে সামুদ্রিক রূপচাঁদা মাছ হিসেবেই বিক্রয় করে থাকে৷

অনেকেই জানেনা এ মাছের নাম পিরানহা৷ পৃথিবীতে ২ প্রকার পিরানহা মাছ পাওয়া যায়৷ ব্লাক বেলি পিরানহা (কালো পেট ওয়ালা) ও রেড বেলি পিরানহা (লাল পেট ওয়ালা)৷ এ মাছের প্রধান আবাস্থল দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিলসহ কয়েকটা দেশের নদীতে। এ মাছ একটি হিংস্র এবং রাক্ষুসে মাছ৷ সারা বিশ্বে মানুষের নিকট খেকো মাছ হিসেবে পরিচিত৷ পিরানহা মাছ মানুষের প্রথম আঘাতের স্থান পায়ের আঙ্গুল। ৩ ধরণের শব্দ উৎপন্ন করার মাধ্যেমে এদের নিজস্ব একটা ভাষা আছে। জলাশয় বা নদীর অন্যান্য মাছ সমূলে ধ্বংস করে৷ ক্ষুধার্থ থাকার সময় এক পিরানহা আরেক পিরানহা মাছকেও খেয়ে থাকে। ধারালো দাঁত আর প্রায় মানুষের মত জিহব্বা থাকার কারণে সে তার লক্ষ্য বস্তুতে শরীরের ১০ গুণ বেশি শক্তিতে কামড় দিতে সক্ষম।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায় ৩০টি মাছ একটি হরিণকে খেতে সময় নেয় মাত্র ১ ঘণ্টা। এ মাছের এমন কিছু বিষক্রিয়া আছে যা আমাদের পাকস্থলি বিনষ্ট করার প্রধান হাতিয়ার। এক বোতল এলকোহলের চাইতেও এ মাছের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি মাছ বেশি ক্ষতিকর। পিরানহা মাছের চর্বি আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত করে। এ মাছে থাকা ফসফেট আমাদের মূত্র প্রদাহ সৃষ্টি করে, নব্য বিবাহিত নারীর বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

প্রশ্রাবের সাথে শরীর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যালসিয়াম ও রক্ত বের করে দেয়৷ পিরানহা মাছ খেলে মানসিক সমস্যাসহ মানুষের দেহে নানা রোগের সৃষ্টি করে৷

আমাদের এলাকায় মূলত রেড বেলি পিরানহা মাছ বেশি পাওয়া যায়। একটি অসাধু চক্র এই মাছ আমাদের এলাকায় আনার পিছনে দায়ী৷ আমদানি, রপ্তানি, বাজার জাতকরণ, পোনা উৎপাদন, মাছ চাষ ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এ মাছ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এ মাছকে ২০০৮ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

চরফ্যাশন উপজেলায় পিরানহা মাছ সম্পর্কে সচেতনতা ও আমদানি রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী৷
শীর্ষবাণী/এনএ