চরফ্যাশনে পুলিশ স্বামী কর্তৃক গৃহবধূকে নির্যাতন, ভ্রুন হত্যার অভিযোগ

মাইন উদ্দিনব জমাদার, চরফ্যাশন : চরফ্যাশনে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারুফা আক্তার আঁখি (২০) নামের এক অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভের ৩ মাসের ভ্রুন নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে। গত শুক্রবার ওমরপুর ই্উনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে গৃহবধূর স্বামীর বসত ঘরে আটকে রেখে এই নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টর ঘটনা ঘটে। চরফ্যাশন থানা পুলিশের সহয়তায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে রাত ১২ টায় চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে গৃহবধূর পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নির্যাতনের পর ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভের ভ্রুন নষ্ট করা হয়েছে বলে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ জানান। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. শামিম বরিশাল বাখরগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য। চরফ্যাশনের ওমরপুর ই্উনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে আবুল কালামের ছেলে তিনি।

সোমবার দুপুরে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ২০১৯ সনে চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল শামিমের সাথে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর থেকে স্বামী পুলিশ সদস্য শামিম তার বাড়ির বসত ঘর নির্মাণ করার জন্য গৃহবধূর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে স্বামী শামিম ছুটিতে বাড়ি আসেন। গত শুক্রবার ফের তার দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এনিয়ে তার সাথে কথার তর্ক হয়। গৃহবধূ স্বামীর দাবিকৃত যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে স্বামী শামিম ও শ্বশুড় আবুল কালম, শাশুড়ী মাছুমা, ননদ সুমি তাকে এলোপাথারী মারধর করে গুরুতর আহত করেন। মারধর করে মাটিতে সুইয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে দেয়। তাতে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে তার গর্ভের ৩ মাসের ভ্রুন নষ্ট হয়ে যায়।

প্রতিবেশিরা চরফ্যাশন থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের সহয়াতায় গুরুতর আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় মামলা দায়ের করবেন বলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ মারুফা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শামিম জানান, বিষয়টি সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ তুলেছেন। সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

চরফ্যাশন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ওই গৃহবধূকে পুলিশ উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শীর্ষবাণী/এনএ