গার্মেন্টস-বাজার খোলায় সংক্রমণ বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গার্মেন্টস ও বাজার খুলে দেওয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে করোনা ভাইরাস (কোভিড ১৯) সংক্রমণ মোকাবিলায় নব নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস ও বাজার খুলে দেওয়ায় সংক্রমণের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই সংখ্যা কমে আসবে।

অন্যান্য দেশের চেয়ে আমরা ভালো করছি। আমাদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার ৫৪ জন নার্সকে নিয়োগ দিয়েছি। নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চললে ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ হতো। সবার পরিশ্রমেই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে। তাই সবাই মিলে আমরা একসঙ্গে কাজ করব এবং এই যুদ্ধে জয়লাভ করব।

মন্ত্রী বলেন, মানুষ অসহায় হয়ে চিকিৎসকদের কাছে আসে। তাই চিকিৎসক-নার্সদের উচিত রোগীদের পাশে দাঁড়ানো। রোগীদের মানসিকভাবে শক্তি বাড়ানো আপনাদের দায়িত্ব।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অনেকগুলো কোভিড-১৯ হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়েও করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য সিনিয়র স্টাফ নার্সদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। শুধু করোনা রোগী নয়, সবাইকেই সেবা দেওয়া এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতেও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, আজ খুব আনন্দের দিন। সরকারি চাকরি পাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। এজন্য সবাইকে অভিনন্দন। আপনাদের যোগদান শুভক্ষণে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দিয়েছেন। তার সেই প্রত্যয় আপনাদের মাধ্যমে পূরণ হবে।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, করোনা মোকাবিলায় কম সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কম সময়ের মধ্যে নিয়োগ দিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং তিনি নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতির পরে ছয় হাজার নার্সকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজ করার ব্যবস্থা করে দিতেও তিনি অনুরোধ জানান।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর বলেন, আমরা যে অল্প সময়ে সবকিছু করতে পারি তারই প্রমাণ পাঁচ হাজার ৫৪ জন নার্স এবং দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, সত্যিকারের আদর্শ নার্স তারাই, যারা রোগীর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। তাই রোগীর সঙ্গে সবাইকে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার বলেন, আমরা অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করছি। এই চ্যালেঞ্জকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যার যেখানে দায়িত্ব পড়বে আপনারা সিনিয়রদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবেন। এরপর তিনি নব নিয়োগপ্রাপ্তদের শপথ পাঠ করান।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ইকবাল আর্সনাল বলেন, এই পরিস্থিতিতে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। ৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু নার্সদের মর্যাদার কথা বলেছিলেন। তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা নার্সদের মর্যাদা দিয়েছেন।

এত স্বল্প সময়ে নিয়োগ পৃথিবীর কোনো দেশে হয়নি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্স হাসনাতি সেতারা বলেন, আমরা গতকাল নিয়োগ পেয়েছি। আমার কর্মস্থল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। এই মহামারি মোকাবিলায় আমাদের নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। জাতির এই দুঃসময়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করতে আজকের এই উদ্যোগের জন্য আমি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর প্রমুখ।