‘ক্ষুধার্তদের কষ্ট অনুধাবন ও দানের হাত সম্প্রসারণ করুন’

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : আলহামদুলিল্লাহ্। করুনাময়ের অপার মহিমায় আমরা সিয়ামের আরেকটি সকাল অতিক্রম করলাম। আজকের বিষয় “ক্ষুধার্তদের কষ্ট অনুধাবন ও দানের হাত সম্প্রসারণ”। সিয়াম সাধনায় একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদেরকে পানাহার পরিত্যাগ করতে হয়। খাদ্য ও পানীয় মজুদ থাকলেও আল্লাহর ভয়ে আমরা খেতে পারি না। আমরা যখন খুব ক্ষুধার্ত হই তখন সারা বছর খাদ্যাভাবে যারা ক্ষুধায় ছটফট করে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারি। এজন্য রমাদানের সিয়াম আমাদেরকে বেশী বেশী দান করতে ও অভাবীদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে।

রাসূল স. রমাদানে উন্মুক্ত বাতাস তথা প্রবাহমান বাতাসের চাইতেও অধিকতর দানশীল ছিলেন। (সহীহায়ন) অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর দু’জন ফিরিশতা আছে। তাদের একজন সকালে ডাক দিয়ে বলে হে আল্লাহ! দানশীলের সম্পদ বাড়িয়ে দাও; আর অন্যজন বলে, সম্পদ কুক্ষিগতকারীর সম্পদকে ধ্বংস করে দাও। (সহীহ মুসলিম) যখনই কোন মানুষ দান করে তার দেহ ও মন প্রশান্তিতে ভরে যায় এবং রিযিক প্রশস্ত হয়ে যায়। আগুন যেমন পানিকে নিভিয়ে দেয় সদাকা তেমন গুণাহকে মিটিয়ে দেয়। (আহমদ ও তিরমিযী) বিস্ময়কর ব্যাপার হলো দান-সদাকাকে আল্লাহকে ঋণ দেয়ার নামান্তর বলা হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে। “তোমরা যদি আল্লাহকে ক্বরজে হাসানা দাও তাহলে তিঁনি তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে তোমাদের ফেরত দিবেন এবং তোমাদের গুনাহ্ মাফ করে দিবেন।” (সূরা তাগাবুন, আয়াত-১৭) সুবহানআল্লাহ!

ক্বিয়ামতের বিচার ফয়সালা হওয়ার পূর্ব প্রত্যেক ব্যক্তি তার দানের ছায়াতলে আশ্রয় নিবেন মর্মে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। (ইবনে হিব্বান ও হাকিম) আল্লাহ তাআলা যেন রমাদানে আমাদেরকে বেশী বেশী দান করার তাওফিক দান করেন। রমাদানের শিক্ষা পরিবর্তন নিয়ে আসুক আমাদের প্রাত্যহিক কর্মে, ফিরিয়ে আনুক আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে এই কামনায়। আমীন। (তথ্য: এ লেখাটি লেখক ৮ম রমাদানে লিখেছেন, যা কয়েকদিন বিলম্বে প্রকাশিত হলো।)

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।