কষ্টে আছেন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও হাফেজগণ, বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার দাবি

শীর্ষবাণী, ঢাকা : করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের অধিকাংশ মসজিদের সম্মানিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কোরআনে হাফেজগণ অর্থসঙ্কটে পড়েছেন। এমনিতেই দেশের মসজিদগুলোর ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ সামান্য সম্মানীভাতা পেয়ে থাকেন। এতে তাদের সংসার চলে না। ফলে অধিকাংশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও হাফেজগণ টিউশনিসহ বাড়তি আয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে টিউশনিসহ বাড়তি সব আয়ের পথ বন্ধ। তাছাড়া বছর শেষে রমজান এলে কোরআনে হাফেজগণ তারাবির সালাতের ইমামতি করে বাড়তি আয় করেন। এবার সরকারি বিধি-নিষেধ থাকায় সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এসব ধর্মগুরুগণ অর্থসঙ্কটে পড়েছেন। এ অবস্থায় ঈদকে সামনে রেখে তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার দাবি ধর্মপ্রাণ মানুষের।

বিশেষ করে মসজিদে দায়িত্ব পালন করা ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পবিত্র রমজানে মসজিদে খতম তারাবি পড়ানো হফেজগল বেশি কষ্টে আছেন। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষরা সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলেও এদের কেউ খবর রাখছেন না। এমনিতে স্বল্প বেতন পান তারা। তার উপর গত দেড় মাস ধরে চলতে থাকা অঘোষিত লকডাউনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। ধর্মীয় অবস্থানে তাদের মর্যাদা অনেক বেশি হলেও বাস্তবতায় বেতন পান নামমাত্র। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কিছু ধর্মীয় সেবার মাধ্যমে বাড়তি উপার্জন করে সংসারের যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতেন। করোনায় থেমে গেছে সবই। ফলে এতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সংসারে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে এবার দেশের অধিকাংল মসজিদে খতম তারাবি হচ্ছে না। মসজিদগুলোতে সুরা তারাবির নামাজ আদায় করা হচ্ছে। যেখানে প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লিদের পদচারণায় ভরপুর ছিল মসজিদ প্রাঙ্গণ এবার তা একেবারেই নীরব। অতিক্রান্ত হচ্ছে এক অচেনা ও অপ্রত্যাশিত রমজান মাস।

একজন হাফেজ বলেন, গত আট বছর যাবত খতম তারাবি পড়াচ্ছি। প্রতিবার খতম শেষে প্রাপ্ত সম্মানী বাবার হাতে তুলে দিতাম। ওই টাকা দিয়ে সবার ঈদের খরচ হয়ে যেত। অন্য সব হাফেজদের মতো আমারও অন্যরকম ভালো লাগতো। কিন্তু এবারের রমজান মাসটা ভিন্ন। খতম তারাবি ছাড়া রমজান হবে ভাবতেই পারিনি।

জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলের মসজিদগুলোতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। কোনো কোনো এলাকায় আরও কম। মসজিদ কমিটি থেকে পাওয়া অর্থে সংসার চলে না সম্মানিত এসব ব্যক্তিদের। অভাব-অনটন লেগেই থাকে। ধর্মপ্রাণ মানুষরা মনে করছেন, ঈদকে সামনে রেখে, সমাজের সম্মনিত এসব ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া দরকার। কারণ, তারা চাইলেও কারো কাছে নিজের সমস্যার কথা বলেন না। নিরবেই কষ্ট সয়ে যান।
শীর্ষবাণী/এনএ