ইমাম মালেক (র.): ফতোয়া প্রদানে সতর্কতা

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : মালেকী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মালেক র. (৯৩ হি.-১৭৯ হি.) অসংখ্য তাবেঈ’র শিষ্যত্ব লাভে ধন্য এক প্রখ্যাত হাদীস ও ফিকহ বিশারদ ইমাম। তাঁর পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁকে ‘আলিমুল মদীনা’ ও ‘ইমামু দারিল হিজরা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আমাদের পূর্বসূরীদের মাঝে একটা প্রবাদ হাদীসের মত মর্যাদা পেত। তাহলো ফতোয়া দিতে গিয়ে যিনি বলবেন ‘আমি জানি না’ তিনিও ফতোয়া প্রদানকারী হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থাৎ কোন বিষয়ে নিজের অজ্ঞতা সম্বন্ধে জানাও একটা বড় মাপের জ্ঞান।

ইমাম মালেকের শিষ্য আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক র. বলেন, একদা আমরা ইমাম সাহেবের সাথে উপবিষ্ট ছিলাম এমন সময় এক লোক এসে বলল, হে আবু আব্দিল্লাহ (ইমাম মালেকের উপনাম)! আমি ছয়মাসের পথ ভ্রমণ করে আপনার কাছে একটি মাসয়ালার সমাধান জানতে এসেছি। আমাকে সমাধান দিন। উত্তরে তিঁনি বললেন, এর উত্তর আমি ভাল জানি না। লোকটি হতবাক হয়ে বলল, আমাকে তো দেশের মানুষ প্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাছে পাঠিয়েছে, আমি ফিরে গিয়ে তাদেরকে কী বলব? উত্তরে ইমাম বললেন, তাদেরকে গিয়ে বলবে, এ বিষয়ে মালেক জানে না।

হায়ছাম ইবনে জামীল বলেন, ইমাম মালেকের কাছে একবার ৪০ টি মাসয়ালার সমাধান জানতে চাওয়া হলে ৩২ টির উত্তরে বলেছেন, আমি জানি না। সুবহানআল্লাহ! না জানা বিষয়ে জানি না বলার সৎসাহস কত লোকেরই বা আছে? বা কেউ জানে না সে বিষয়টি প্রচার করার মত আত্মবিশ্বাসই বা কয়জনের আছে? হে আল্লাহ! ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা যেন আমাদের সালাফদের অনুসরণ করতে পারি সে তাওফীক দাও। আমীন!!

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।