ই’তিকাফ এর ফজিলত ও করণীয়

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : আলহামদুলিল্লাহ্। করুনাময়ের অপার মহিমায় আমরা ১৯তম সিয়ামের সকাল অতিক্রম করলাম। আজকের বিষয় “ই’তিকাফ”। ই’তিকাফ আরবী শব্দ। এর অর্থ কোথাও নিজেকে আবদ্ধ বা বন্দি করে রাখা। রাসূল স. রমাদানের শেষ ১০ দিন ই’তিকাফ করতেন মর্মে বিশুদ্ধ হাদীস রয়েছে। জীবনের শেষ রমাদানে তিঁনি ১০ দিনের পরিবর্তে ২০ দিন ই’তিকাফ করেছেন। সেই রমাদানে জিব্রাইল আ. দু’বার কুরআন রিভাইস দিয়েছেন এ কারণে অথবা একবার বিশেষ কারণে তিঁনি ই’তিকাফ করতে পারেননি তার ক্বাযা হিসেবে এমনটি করেছেন বলে আলিমগণ উল্লেখ করেছেন।

ই’তিফাক সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। কারো কারো মতে মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্বসা ব্যতীত ই’তেকাফ শুদ্ধ নয়। তবে বিশুদ্ধ মত হলো সকল মসজিদেই ই’তিকাফ করা যাবে, তবে জুমুআ অনুষ্ঠিত হয় এমন মসজিদে করাই উত্তম যাতে জুমুআর জন্য বের হতে না হয়।

পুরুষেরর ন্যায় মহিলারাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মসজিদে ই’তিকাফ করতে পারবেন। হানাফী মাযহাবে মহিলাদের জন্য ঘরে ই’তিকাফ করার কথা বলা হয়েছে। ই’তিকাফ চলা অবস্থায় ব্যক্তিগত একান্ত প্রয়োজন ব্যতিরেকে মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে না। এমনকি রোগী দেখা বা জানাযার জন্যও নয়। পরিবারের কোন লোক বা অন্য কোন লোক স্বল্প সময়ের জন্য কোন প্রয়োজনীয় কথা বলতে চাইলে বলতে পারবেন। ই’তিকাফের ফজিলত উল্লেখ করে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হলেও সেগুলো দুর্বল বা মাওদূ’। কিন্তু ই’তিকাফে বান্দা আল্লাহর সাথে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হন তাতে কুরআন ও হাদীসের অন্যান্য সাধারণ দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয় যে ই’তিকাফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

নিম্নে ই’তিকাফের কয়েকটি বিশেষ উপকারিতা উল্লেখ করা হলো।

# ই’তিকাফের মাধ্যমে রমাদানের শেষ ১০ দিনে লায়লাতুল ক্বদর অন্বেষণেরর পথ সুগম হয়।

# জনমানবশূন্য অবস্থায় আল্লাহ্ তাআলার সাথে নিবিড় সম্পর্ক তৈরী করার মোক্ষম সুযোগ।

# অন্তরের পরিশুদ্ধতা অর্জন ও পরিপূর্ণভাবে মহান রবের দিকে ঝুঁকে পড়া।

# শুধুমাত্র ইবাদত তথা সালাত, যিকির, তেলাওয়াত, দুআ ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করা।

# যে সকল অনর্থক কথা ও কাজ সিয়াম বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখার সুবর্ণ সুযোগ।

# পার্থিব অনেক বৈধ কাজ থেকে নিবৃত্ত থেকে কেবল আল্লাহ্ তাআলার সাথে সম্পর্ক জোড়দার করার সর্বত্তোম উপায়।

আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে তাঁর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করার তাওফীক দিন। রমাদানের শিক্ষা পরিবর্তন নিয়ে আসুক আমাদের প্রাত্যহিক কর্মে, ফিরিয়ে আনুক আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে এই কামনায়। আমীন।

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।