ইউটিউবে আপলোডকৃত ওয়াজ: ইসলামের শিক্ষা ও জাতির লাভালাভ

ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ : গতরাতে একটা পূর্বনির্ধারিত প্রোগাম বাতিল হওয়ায় হাতে সময় পেয়ে ইউটিউবে হাদীয়ে যামানদের ওয়াজ শুনলাম। মোট সাতজন বক্তার মধ্যে তিনজন মোটামুটি নামাযের গুরুত্ব, বে-নামাযীর জানাযায় না যাওয়া ও তাদের সাথে কুরবানী না করা, আব্দুল কাদের জিলানী র. কে নিয়ে মিথ্যাচার ও টেন স্কুল কর্তৃক সমকামিতা প্রমোট করার প্রতিবাদ ও এ বিষয়ে ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরেছেন। বাকী চারজনের মধ্যে একজনকে আয়োজকরা দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ আলিম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সার্টিফিকেটের বহরও অনেক দীর্ঘ। তার ওয়াজে নিজের স্তুতি ছাড়া বেশী কিছু পাওয়া গেল না। এক পর্যায়ে বললেন, ইমাম বুখারী র. নাকি বলেছেন, আল্লাহর কাছে এই বলে জান্নাত চাইব যে, আমি জীবনে কোন গীবত করিনি। উপস্থিত লোকেরা জানতে চাইলেন, আপনিতো হাদীসের রাবীদের সমালোচনা করে গীবত করেছেন। উত্তরে ইমাম বুখারী বলেছেন, এগুলো আমি করিনি শুধুমাত্র অন্যদের কথা উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করেছি।

সত্য কথা হলো ইমাম বুখারী হাদীসের শুদ্ধাশুদ্ধ যাচাইয়ের জন্য অগণিত রাবীর সমালোচোনা করেছেন এবং ঐ সমালোচনা গীবতের পর্যায়ে পড়ে না; বরং তা এক ধরনের ইবাদত। এখানে বক্তা মহোদয়ের বক্তব্য সত্য বিবর্জিত ও অজ্ঞতা প্রসূত। আরেকজন বক্তা নিজেকে উপমহাদেশের বড় একজন পীরের নাতিন জামাইয়ের ছেলে দাবী করলেন এবং তার বাবার বিয়ে সরাসরি রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশে হয়েছে বলে উল্লেখ করলেন। তিনি খুব গর্ব করে বললেন যে জানাযার সালাতের পরে হাত তুলে দুআ করতে গিয়ে তিনি একজন প্রতিবাদকারীকে ধরাশায়ী করে ফেলেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত সুন্নাত হলো দাফনের পরে দুআ করা; জানাযার পরে নয়। আরেকজনকে দেখলাম মিলাদ ও ক্বিয়ামের গুরুত্ব বয়ান করতে গিয়ে বললেন, এটা বিদআত হলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, মসজিদে টাইলস লাগানো ও মাইক ব্যবহার করা বিদআত। ইলমের দৈন্যতা কত বেশী হলে এভাবে বিদআতকে সংজ্ঞায়িত করতে পারেন।

সর্বশেষ বক্তার পুরো আলোচনাই মওদূদী র. এর সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত সমালোচনা। আমার কথা হলো মানুষের মূল্যবান সময় ও অর্থ নষ্ট করে এ সব ওয়াজ না শুনিয়ে দু’টি সূরা মশক করানো, নামাযের কয়েকটি মাসআলা বর্ণনা, পিতা-মাতা ও সন্তান-সন্তুতির প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে দু’টি আয়াত ও দু’টি হাদীসের ব্যাখ্যা করতেন তাহলে শ্রোতারা উপকৃত হতেন এবং তিনিও ছাওয়াব পেতেন। হাদীয়ে যামানরা একটু ভেবে দেখবেন কী?

লেখক : ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ
অধ্যাপক, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুষ্টিয়া।