‘আম্পান’ মোকাবেলায় মনপুরায় প্রস্তুত ৭৪টি সাইক্লোন সেল্টার, ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ স্থানে আনা হচ্ছে

মোঃ অহিদুর রহমান, মনপুরা থেকে: ঘূর্নিঝড় আম্পান মোকাবেলায় ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্থায়ী এবং অস্থায়ী ৭৪টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ চর থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হচ্ছে।

প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এরই মধ্যে দুইটি প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। সকল ধরনের নৌযান এবং মাছ ধরা ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

উপজেলা সিপিপি’র উদ্যোগে গত ২ দিন ধরে মনপুরার সব যায়গায় সচেতনাতামূলক প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। প্রচারণায় মানুষকে সাইক্লোন সেল্টারগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, মসজিদের ঈমাম, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান জনগণকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল থেকে লোকজনকে মূল ভূখণ্ডের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মনপুরায় গত ২দিন ধরে রৌদ্রজ্জোল আবহাওয়া ও প্রচণ্ড গরম ছিল। নদী তেমন উত্তাল না থাকলেও স্বাভাবিকের চেয়ে পানির উচ্চতা একটু বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিপিপি’র উপজেলা টিম লিডার এরফান উল্লাহ চৌধুরী শীর্ষবাণী ডটকমকে বলেন, ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির পর থেকে আমরা প্রচার চালাচ্ছি। আমাদের প্রায় ৮ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। ঘূর্নিঝড় পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উভয় পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

এব্যাপারে মনপুরার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস শীর্ষবাণী ডটকমকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরা ৭৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। এ পর্যন্ত ২টি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপি মাইকিং করছে। শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। ঘাটে ট্রলার প্রস্তুত রাখা আছে। বিচ্ছিন্ন চরগুলো থেকে মানুষকে নিরাপদে নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেরকে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে।
শীর্ষবাণী/প্রতিনিধি/এনএ